kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সম্প্রীতির অনন্য নজির

৬ পুরুষ ধরে এই গ্রামে মহররমের তাজিয়া বানান হিন্দুরা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৬ পুরুষ ধরে এই গ্রামে মহররমের তাজিয়া বানান হিন্দুরা!

প্রতীকী ছবি

সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুরে একটি গ্রাম। সম্প্রীতির স্বাক্ষর রেখে  উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার বড়সিঙ্গা গ্রামে এবারও বসতে চলেছে মহররমের মেলা। শতাব্দী প্রাচীন মেলার প্রস্তুতি ঘিরে ইতিমধ্যেই হিন্দু–মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়েছে। হিন্দু, মুসলিম দুই ধর্মের মানুষের মিলনে মহরমের মেলাটি সম্প্রীতির মেলার চেহারা নেয়। সম্প্রীতির অনন্য নজির বিগত ছ'পুরুষ ধরে এই ধর্মীয় উৎসবের তাজিয়া তৈরি করে আসছেন বড়সিঙ্গার লাগোয়া মুনশিপুর–বড়গ্রামের মালাকার ও দাস পরিবারের শিল্পীরা।

বড়সিঙ্গা গ্রামটি দুই দিনাজপুরের সীমান্তে অবস্থিত । দুই জেলার গোকর্ণ, পেংলু, যুগিবাড়ি, পিরপাড়া, মোল্লাপাড়া, দুর্লভপুর, হাঁড়িপুকুর, ফতেপুর, চিতাপুকুর, মির্জাদিঘি, বোরট, বড়সিঙ্গাসহ মোট ৬০ গ্রামের মানুষ কারবালার মাঠে হাজির হন মহরমের দিন লাঠি খেলার পাশাপাশি মেলা দেখতে।  এই শিল্পীদের মধ্যে আছেন মধুমঙ্গল মালাকারের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীও। এ ছাড়া তাজিয়া ও ঘোড়া তৈরি করে থাকেন গৌরব মালাকার, বিবেক মালাকার, গুরুকিঙ্কর মালাকার ও সুকুমার দাসের পরিবার। 

মধুমঙ্গলবাবু জানান, ছ' পুরুষ ধরে তাজিয়া এবং ঘোড়া তৈরি করে আসছেন তাঁরা। তাঁদের তৈরি তাজিয়া এবং ঘোড়া বিক্রি হয় দুই দিনাজপুর এবং মালদার বিভিন্ন গ্রামে। রঙিন কাগজ আর শোলার সাজে সাজানো হয় ঘোড়া এবং তাজিয়া। মঙ্গলবার মহররমের দিন মুস্কিপুরের শাহ শরিফ পিরবাবার দরগায় শিরনি চড়াবেন হিন্দু–মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই। তার পর দুপুরের পর থেকে লাঠি খেলায় মাতবেন ৬০ গ্রামের মহরম আয়োজক কমিটির সদস্যরা। বুধবার বসবে মহরমের মেলা। মেলায় এবারও যোগ দেবেন হাজার হাজার মুসলিম পুণ্যার্থীর সঙ্গে হিন্দুরাও। মেলা হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থেই এক মিলনমেলা।

সূত্র : আজকাল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা