kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে

অনিতা চৌধুরি, কলকাতা প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আসামে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে

ভারতের আসামের প্রথম ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, আসামের গোয়ালপাড়া জেলার মাটিয়ায় ৪৫ কোটি টাকা খরচ করে গড়ে উঠছে সে দেশের বৃহত্তম ডিটেনশন সেন্টার। 

গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত নাগরিক তালিকায় বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ। ১২০ দিনের মধ্যে তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। যারা শেষপর্যন্ত নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না, তাদের ঠাঁই হবে ডিটেনশন সেন্টারে।

কিছু  ভারতীয় পোর্টাল সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, গুয়াহাটি থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে গোয়ালপাড়া জেলার মাটিয়া। সেখানেই বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম ডিটেনশন সেন্টার। এছাড়াও বরপেটা, ডিমা, হাসও, কামরূপ, করিমগঞ্জ, লখিমপুর, নওগাঁও, নলবাড়ি, শিবসাগর এবং শোনিতপুরেও তৈরি হবে ডিটেনশন সেন্টার; সবমিলিয়ে ১১টি। 

জানা গেছে, গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে মোট ১৫টি পৃথক চারতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। মোট তিন হাজার পুরুষ ও নারীকে আলাদা আলাদাভাবে ভবনগুলোতে রাখা হবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে হাসপাতাল ও স্কুল তৈরিরও পরিকল্পনা আছে ভারত সরকারের।

যদিও ভারতের অনেক রাজনৈতিক দল এই ডিটেনশন সেন্টার বানানোর তীব্র বিরোধিতা করেছে, তবুও সূত্রের খবর, কাজ চলছে জোর কদমে।শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এনআরসি নিয়ে এক আলোচনার সময় মমতা ব্যানার্জি বলেন, টাকা খরচ করে ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে এটা কি ধরনের রাজনীতি?
 
সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের নেতারা ডিটেনশন সেন্টারে সাথে হিটলারের আমলের জার্মানির কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের  তুলনা  করেছেন।

সূত্রের খবর, প্রতিটি ডিটেনশন সেন্টারে অন্তত এক হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। খরচ হবে সবমিলিয়ে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে আসামের ৩১ টি সংশোধনাগারে প্রায় ৯ হাজার বন্দি রয়েছেন। সরকার এই জেলগুলোতে আটক ব্যক্তিদের রাখার পরিকাঠামো বাড়াবে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আসামের বিজেপি সরকার অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, যারা এনআরসিতে জায়গা পাননি, তাদের বিদেশি তকমা কিংবা গ্রেপ্তার করা হবে না। আদালতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। কিন্তু ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে নিয়ম মাফিক আবেদন জানাতে হবে। ৩১ শে আগস্ট এনআরসি প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায়, তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা