kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে মহাকাশেই নিখোঁজ ভারতের চন্দ্রযান?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে মহাকাশেই নিখোঁজ ভারতের চন্দ্রযান?

ভারতের চন্দ্রযান-২ এর অভিযান শেষ মুহূর্তে এসে ব্যর্থ হয়ে গেছে। চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের মাটি ছুঁতে পারেনি। এতে চন্দ্র বিজয়ের স্বপ্ন আপাতত ব্যর্থ হয়ে গেছে ভারতবাসীর। কিন্তু ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে বিস্ফোরক তথ্য। ব্যর্থ হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। এমনই তথ্য দিয়েছে ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, বিশ্বে এক নম্বর আসন নেওয়া ভারত নানা সময়েই নানা আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়েছে। চন্দ্রযান-২ তাতে একটি সংযোজনমাত্র। ঠিক কী ধরনের রাজনীতি, তা বুঝতে হলে অন্যান্য দেশের মহাকাশ গবেষণার দিকে তাকাতে হবে। 

মহাশূন্যের রহস্য ভেদ করতে সবচেয়ে বেশি তৎপর মার্কিন প্রতিষ্টান নাসা। একাধিক মিশনে তার সাফল্য সবাইকে টেক্কা দিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে নাসা বেসরকারিকরণের পথে। মার্কিন মোটর প্রস্তুতকারী সংস্থা টেসলার মালিক এলন মাস্কের তৈরি ‘স্পেস এক্স’, যা কিনা বাণিজ্যিকভাবে পৃথিবীবাসীকে মহাকাশে ভ্রমণ করানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে, নাসার বহু প্রকল্প এখন এই সংগঠনের অধীনে। আমেরিকার সাম্প্রতিক মন্দা, তরুণ প্রজন্মের গবেষণায় উৎসাহে কিছুটা ভাঁটা-সহ একাধিক কারণে নাসা এখন অনেকটাই ফিকে। ফলে স্পেস এক্সই ভরসা। অন্তত আর্থিকভাবে তাদের সাহায্য নিতেই হচ্ছে নাসাকে।

মহাশূন্যের রহস্য ভেদ করতে পিছিয়ে নেই রাশিয়া এবং চীনও। রাশিয়া মেধা এবং অবকাঠামোয় মহাকাশ গবেষণায় আমেরিকার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেললেও, এখন তার অবস্থাও শোচনীয়। স্পেস এক্সের মতো কোনো সংস্থা এসে হাত ধরলে বেঁচে যায় রুশ মহাকাশ গবেষণা। 

এদিকে চীন আবার ভিন্ন পথে মহাকাশে পাড়ি জমাতে সদা সচেষ্ট। আর ভারত, এসব প্রথম বিশ্বের দেশের তুলনায় অনেক দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও, শুধুমাত্র মেধার জোরে এদের সঙ্গে সর্বদা প্রতিযোগিতায় থাকে। ফলে মহাকাশে আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের শক্তিকে প্রতিহত করার একটা লড়াই চলে ইসরোর। চন্দ্রযান-২ ও তার ব্যতিক্রম নয়। ত্রিমুখী চাপের কাছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি, কম খরচে তৈরি করা চাঁদে নামার এমন একটি যানকে হাতিয়ার করে ভারত ফের নিজের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ছিলো। তাহলে কী আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার চন্দ্রযান-২?

এদিকে ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ১০০ বার ল্যান্ডার বিক্রমের অবতরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু প্রতিবারই অবতরণের আগে ভেঙে পড়েছে। এতো বড় একটা প্রকল্পের আগে এমন লাগাতার ব্যর্থতার কথা পুরোপুরি আড়ালেই রেখেছিল ইসরো। তবে বিক্রমের চারটি পায়ে যে সমস্যা ছিলো, সেকথা একবার স্বীকার করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

রাজনীতির প্রভাব রয়েছে আরও। ৬ সেপ্টেম্বর ছিল দ্বিতীয় মোদি সরকারের শততম দিন। তাই এই দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে চন্দ্রযান ২ গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পূর্ণ করুক, তা চেয়েছিলেন কেন্দ্রের অনেক কর্তাব্যক্তিই। তাহলে কি ল্যান্ডার বিক্রমের মাত্র ২৪-২৭ শতাংশ সাফল্য সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছিল চাঁদে? এই রাজনৈতিক চাপের কথা ঘনিষ্ঠ মহলে আকারে-ইঙ্গিতে ব্যক্ত করেছেন স্বয়ং শিবনই। এখানে আরো একটা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তাহলে কি বিজ্ঞানীদের সাফল্যকে ভারতের সাফল্য বলে দাবি করার একটা রাস্তা তৈরি করা হচ্ছিল?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা