kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারত-ইসরায়েল কীভাবে এত কাছে এলো?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত-ইসরায়েল কীভাবে এত কাছে এলো?

ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ পুরনো। কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সম্পর্ক অন্য মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসরায়েলের কট্টর ইহুদীবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে 'বন্ধু' সম্বোধন করে টুইটও করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বেও ইসরায়েলকে পাশে পাচ্ছে ভারত।

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারতে অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পর তৃতীয় স্থানে আছে ইসরায়েল। কিন্তু ইহুদী দেশটির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সবসময় এমন ছিলো না। অতীতে ভারতের সরকারগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসার সম্পর্ক রাখলেও ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ধরে রাখতে বাধ্য হয়েছিলো।

সম্প্রতি ভারত সফরে আসা নেতানিয়াহুকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও তার সফরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিক্ষোভ দেখা না যাওয়ায় এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, ভারতে জনমতের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে; এবং অবশ্যই দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে এককেন্দ্রিক সম্পর্ক আছে।

আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার স্বার্থে প্রথম দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ সম্পর্ক বজায় রাখত ভারত। পরে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা আজ ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এত কাছাকাছি আসলো দুই দেশ; সেটা জানার জন্য এক ইতিহাসে ঢুঁ মেরে আসা যাক-

১৯৪৭ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি এলাকা ভাগের প্রস্তাব দিয়েছিল৷ সাধারণ পরিষদে সেটি পাসও হয়৷ তবে আরব রাষ্ট্রগুলোসহ ভারত সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়নি।

১৯৪৯ সালে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের সদস্য করার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ভারত৷ তবে ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়বাদী দল ‘হিন্দু মহাসভা’র নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকর ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সমালোচনা করেছিলেন।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় ভারত৷ এরপর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, ‘‘আমরা আরও আগেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতাম, কারণ ইসরায়েল একটি বাস্তবতা। কিন্তু আমরা আরব রাষ্ট্রের বন্ধুদের কষ্ট দিতে চাইনি বলে, তা (ইসরায়েলকে স্বীকৃতি) করিনি৷’’

১৯৫৩ সালে মুম্বাইতে ইসরায়েলের একটি কনসুলেট খোলার অনুমতি দেয় ভারত৷ কিন্তু আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে ভেবে ইসরায়েলের সঙ্গে পরিপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়নি নেহেরু সরকার।

১৯৬২ সালে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র চেয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ডাভিড বেন গুরিয়নের (ছবি) কাছে চিঠি লিখেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু৷

১৯৭১ সালে ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়তে অস্ত্র চেয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেই অস্ত্র ভারতীয় সৈন্য ও মুক্তি বাহিনী ব্যবহার করেছিল বলে জানায় পত্রিকাটি৷ এরপর মেয়ার গান্ধীর কাছে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন৷ তবে গান্ধী তা মেনে নেননি।

১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেটিই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল।

১৯৯২ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সময় ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েল ভারতের নতুন দিল্লিতে দূতাবাস খোলে৷ আর মে মাসে ইসরায়েলের তেল আভিভে দূতাবাস খোলে ভারত।

১৯৯৬ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট এজার ভাইৎসমান ভারত সফরে গিয়েছিলেন। ইসরায়েলের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই প্রথম ভারত সফর ছিল।

১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ইসরায়েল।

২০০০ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলকে আডভানি তেল আভিভে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট এজার ভাইৎসমানের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জসওয়ান্ত সিংয়ের সফরের সময় দুই দেশ যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কমিশন গঠন করেছিল।

২০০৩ সালে ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন আরিয়েল শ্যারন৷ সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী।

২০১৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু৷

২০১৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে ভারত৷ এর মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব নিয়ে ভারতের নীতিতে পরিবর্তন আসার সংকেত দেয়া হয়৷ একই বছর ইসরায়েল সফরে যান ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি৷

২০১৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফরে যান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনদিন ছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ভোট দেয় ভারত।

মোদির ইসরায়েল সফরের ছয় মাস পর ২০১৮ ভারত সফরে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

২০১৯ প্রথম ফেব্রুয়ারিতে এবং পরে সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল নেতানিয়াহুর। তবে দুবারই দেশে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সফর বাতিল করতে হয়েছে। তবে বন্ধু দিবসে একে অপরের সঙ্গে টুইটারে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন মোদি ও নেতানিয়াহু।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা