kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আতঙ্ক, উত্তেজনা ও উল্লাসের রাত আজ ভারতের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো ধরনের অবকাশ ছাড়াই চলছে বিক্রম। বর্তমানে চাঁদ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে বসে মনিটর করছে অরবিটার। কক্ষপথ থেকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলা ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ চাঁদের দরজায় কড়া নাড়বে আজ রাত ভারতীয় সময় ১টা ৫৫ মিনিটে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানিয়েছে, ভারতীয় সময় রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে চাঁদে নামার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বিক্রম এর। রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে চাঁদের মাটিতে নামবে ‘বিক্রম’।

অরবিটার তার আগে ল্যান্ডারকে চন্দ্রপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে যাবে। তারপর ধাক্কা দিয়ে তুলে দেবে একশ কিলোমিটারে। ওই একশ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে পাখির পালকের মতো ভাসতে ভাসতে নিচে নেমে আসবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’, যাকে মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন ‘সফট ল্যান্ডিং।

তবে আগে থেকে ঠিক করা ছিল যে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ৭০.৯  ডিগ্রি অক্ষাংশের মানজিনাস-সি ও সিম্পেলিয়াস-এন ক্রেটারের মাঝে অবতরণ করানো হবে ল্যান্ডারকে। পরে ইসরো ঠিক করেছে, এত কাছে থেকে নয়, দক্ষিণ মেরুর আরো সুদূর প্রান্তে, আরো অজানা জায়গায় নামানো হবে ল্যান্ডারকে। 

জানা গেছে, লুনার সারফেস ম্যাপিং-এ সেই জায়গার অবস্থান ৭০.৯ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা এবং ২২.৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে। তার মানে দক্ষিণ মেরুর আরো গহীনে, ছয়শ কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন তাদের মহাকাশযান নামানোর দুঃসাহস করেনি।

সফট ল্যান্ডিংয়ের আগের ১৫ মিনিট মনিটরে সতর্ক চোখ রাখবেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। অবতরণের আগে গতিবেগ কমিয়ে নিয়ে আসা হবে সেকেন্ডে ২ মিটার। এর একচুল এদিক-ওদিক হলে হুড়মুড়িয়ে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে রোভারসহ বিক্রম।

সফট ল্যান্ডিং ঠিকভাবে করতে হলে ছোট ‘রকেট’ চালাতে হতে পারে ল্যান্ডারকে। ইসরো জানিয়েছে, অবতরণের সময় যদি চাঁদের মাটির ধুলো ওড়ে, তাহলেই বিপদ! সেউ ধূলিকণা যন্ত্রের উপর গিয়ে পড়লে বেতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 'ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক' এর মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে না রোভার ‘প্রজ্ঞান’।

সে কারণে ধুলো ওড়া বন্ধ করতে ল্যান্ডারের চারটি ইঞ্জিন ওই সময় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু সেন্ট্রাল ইঞ্জিন কাজ করবে। সেটাও সতর্কভাবে। চাঁদের মাটি ছুঁয়েই অরবিটারে বার্তা পাঠাবে ল্যান্ডার। তার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা। ভোর রাত সাড়ে ৪টা নাগাদ রোভার ‘প্রজ্ঞান’ বেরিয়ে আসবে ল্যান্ডারের পেট থেকে।

জানা গেছে, রোভারের প্রথম কাজ হবে গ্রাউন্ড স্টেশনে বার্তা পাঠানো এবং তা পর কাজ শুরু করা। পৃথিবীর সময় ধরে ভোর হলে রোভার ছবি তুলবে চন্দ্রপৃষ্ঠের। তারপর ধীরে ধীরে খনিজ উপাদানের খোঁজ শুরু করবে।

‘রোভারে’ দু’টি যন্ত্র রয়েছে। ‘আলফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার’ নামে যন্ত্রটি অবতরণস্থলের কাছে চন্দ্রপৃষ্ঠে কী কী উপাদান রয়েছে সেটা দেখবে। ওই যন্ত্রে কিউরিয়াম নামে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে এক্স-রে ও আলফা পার্টিকল নির্গত হবে এবং তার মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলবে। চাঁদের পাথরের মধ্যে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে কি না, তার সন্ধানও করবে সে।

আর দ্বিতীয় যন্ত্রের নাম ‘লেসার ইনডিউসড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপ’। অবতরণস্থলের আশপাশে চাঁদের মাটিতে কী কী উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে, সেটা খুঁজে বের করা তার কাজ। তবে প্রথম যন্ত্রের থেকে আলাদা পদ্ধতিতে এ কাজ করা হবে।

কাজ শেষে রোভার নষ্ট হয়ে যাবে। বেঁচে থাকবে কেবল অরবিটার। তারও মেয়াদকাল এক বছর। তাছাড়া চাঁদের মাটি থেকে একশ কিলোমিটার দূরে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইট ক্রমাগত চাঁদের পিঠের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাতে থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা