kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় পুরস্কার জেতার খবর বন্ধুদের জানানোর প্রহর গুনছে জম্মুর তালহা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় পুরস্কার জেতার খবর বন্ধুদের জানানোর প্রহর গুনছে জম্মুর তালহা

হামিদরূপী তালহা

সিনেমার হামিদ মনে করত, সে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছে। আসলে বাবার খোঁজে মরিয়া ছেলেটি কথা বলত এক সেনাকর্মীর সঙ্গে। কিন্তু ‘হামিদ’-এর জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার খবরই জানতে পারেনি শিশু অভিনেতা তালহা আরশাদ রেশি। জানবে কী করে, ফোন যোগাযোগই তো বন্ধ।

এক রাতে ছেলের আবদার রাখতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে হামিদের বাবা আর ফেরেনি। বাবার খোঁজে আল্লাহর সঙ্গে কল্পিত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল বাবারই ভাঙাচোরা মোবাইল ফোন। 

আর তালহার কাছে বাবার স্মার্টফোন থাকলেও গত এক মাস ধরে সেটি অকেজো। কাশ্মীরে মোবাইল যোগাযোগ চালু হলে তালহা প্রথমেই সে কারণে ফোন করতে চায় স্কুলের বন্ধুদের। জানাতে চায়, সে অনেক বড় পুরস্কার পেয়েছে। জানাতে চায়, দেখা হলে আবার আগের মতো ক্রিকেট খেলবে।

১১ বছর বয়সী তালহা পরিবারের সঙ্গে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মুতে এসেছে দু’দিনের জন্য। সোমবার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় তাকে। শ্রীনগর দিল্লি পাবলিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তালহা প্রথমেই বলে, ওখানে অবস্থা খুব খারাপ। সব বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। এক মাস স্কুলে যেতে পারছি না। পড়াশোনায় অনেক ফাঁক পড়ে গেল। সারাদিন বাড়িতে বসে আছি। স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। মন খারাপ লাগছে।

তালহা জানায়, বাড়িতে টিভি দেখা তার অভ্যাস। বাড়ির সামনে চুটিয়ে ক্রিকেটও খেলে সে। তালহা বলে, যখন স্কুলে যেতাম, অনেকটা সময় কেটে যেত। রবিবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতাম। আমাদের জায়গাটা এত সুন্দর! একেবারে সিনেমার মতো। কাশ্মীরে আরো বেশি সিনেমার শুটিং হোক।

তালহা আরো জানায়, শুটিংয়ে প্রথম দিকে তার অসুবিধা হত। এর আগে কোনো দিন অভিনয় করেনি। পরে সে সব আয়ত্ত করে নিয়েছিল। সে বলে, জম্মুতে সিনেমার স্ক্রিনিং হয়েছিল যখন, মা-বাবা-ভাই মিলে দেখতে গিয়েছিলাম। কাশ্মীরে একটা কফি শপেও ছবিটা দেখিয়েছে। কিন্তু ওখানে কোনো সিনেমাহল নেই। ‘হামিদ’ কী করে দেখানো হবে?

তালহার বাবা আরশাদ রেশি আসলে জম্মুর বাসিন্দা। পেশাগত কারণে ছয়-সাত বছর ধরে শ্রীনগরে থাকেন। এক বন্ধুর বিএনএলএন সংযোগের মোবাইল থেকে কানপুরে আত্মীয়দের নিজেদের অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্তির খবর জেনেছিলেন, পুরস্কার ঘোষণার পাঁচ দিন পর। 

আরশাদ বলেন, আনন্দ করার পরিস্থিতি তো নেই। রাস্তাঘাট-যানবাহন-দোকানপাট সব বন্ধ। শ্রীনগরে ফিরে গেলে কারো সঙ্গে আর যোগাযোগই থাকবে না।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে হামিদের শুটিং হয়। সে সময় আট বছরের তালহাকে তার স্কুল থেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন পরিচালক। তালহার দুঃখ, সেই স্কুলে গত এক মাস পা রাখেনি সে। আরেকটা কষ্ট আছে তার— সিনেমার চরিত্র হামিদের মতো অনেকের বাবাই তো নিখোঁজ কাশ্মীরে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা