kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

একদিকে পুলিশ অন্যদিকে মুক্তিকামী অস্ত্রধারী! উভয় সঙ্কটে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:১০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একদিকে পুলিশ অন্যদিকে মুক্তিকামী অস্ত্রধারী! উভয় সঙ্কটে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা

কাশ্মীরের একটি দোকান

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে জম্মু ও কাশ্মীর অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আর এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে রীতিমতো উভয় সঙ্কটে পড়েছেন কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা। কারণ তারা একদিকে স্বাধীনতাকামী অস্ত্রধারী, অন্যদিকে পুলিশের চাপের মধ্যে রয়েছেন। 

কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সকাল ৬ টা থেকে আটটা এবং সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত রাস্তার ধারে পসরা নিয়ে বসছিলেন।  কিন্তু এতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এখন সকাল এবং সন্ধ্যার বদলে দুপুরে দোকানপাট খুলতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। 

প্রশাসনের ধারণা, দুপুরেও দোকানপাট খোলা থাকলে বোঝানো যাবে যে, উপত্যকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে দোকান খোলায় শ্রীনগরের বাটামালু এলাকা থেকে ৪ জন ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আবার সন্ধ্যায় দোকান খোলায় কামারওয়ারি এলাকা থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে শ্রীনগরের সিভিল লাইনস এবং উপত্যকার অন্য কয়েকটি অংশে সকালে পসরা নিয়ে বসছিলেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের একাংশের দাবি, দোকান লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোড়া হয়েছে। হুমকিও দিচ্ছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীকারীরা। 

এখনও এসব ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ। গত সপ্তাহে শ্রীনগরের পারিমপোরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করে সন্দেহভাজন স্বাধীনত। পুলিশের কথা মেনে ওই ব্যবসায়ী দুপুরে দোকান খুলেছিলেন। 

পুলিশের দাবি, জঙ্গিরা তাঁকে দোকান বন্ধ করতে বলে। তিনি জবাবে বলেন, কাশ্মীর আজাদি পেলে তিনি 'আজাদি ব্রিগেড'-এর নির্দেশ মেনে চলবেন। তারপরেই তাঁকে গুলি করা হয়।

কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক কর্মকর্তার বলেন, দু'পক্ষের টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে গেছি আমরা। 

তাঁর দাবি, গতকাল পুলিশ জোর করে অনেক ব্যবসায়ীকে পসরা নিয়ে বসতে চাপ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ী খুনের পরে কেউ ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। 

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো ব্যবসায়ীকে জোর করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের নিজের কাজকর্ম শুরু করা উচিত।

এদিকে, সরকারি মুখপাত্র রোহিত কানসাল জানিয়েছেন, আজ কাশ্মীরের আরও ৯২টি থানা এলাকা থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল চালু হয়েছে ২৯টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। 

তিনি জানান, ৪ হাজার স্কুল খুলেছে উপত্যকায়। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার যে কম তা স্বীকার করেছেন তিনি।

সূত্র : এনডিটিভি 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা