kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকার প্রথম বলি এই বৃদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকার প্রথম বলি এই বৃদ্ধ

ভারতের আসাম রাজ্যে ঘোষণা করা চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স- এনআরসি) প্রকাশ হওয়ার পর ভোগান্তির শেষ নেই বহু মানুষের। তেমনই একজন করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরের ফয়জুর রহমান।

শনিবার এনআরসিতে নাম না থাকার খবরটা পেয়েই থমকে গিয়েছিলেন করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরের ফয়জুর রহমান। সারাদিন কথাবার্তা প্রায় বন্ধই ছিল। কিছু খেতে পারেননি সারা দিন। রবিবার ভোরে মিলল মৃতদেহ।

শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ বছরের ওই প্রৌঢ়ের। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এনআরসি-র প্রথম বলি হিসেবে তাকেই তুলে ধরেছে ভারতীয় মিডিয়া। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬০ সালে কেনা জমির দলিল দিয়েছিলেন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু পরিবারের সাত জনের কারো নাম আসেনি তাঁর।

এছাড়া এনআরসি তালিকা প্রকাশের আগেই গতকাল আশঙ্কায় আত্মঘাতী হয়েছেন শোণিতপুরের শায়েরা বেগমও। তিনি লোকমুখে শুনেছিলেন এনআরসিতে তাঁর নাম নেই।

যে আন্দোলনের ফলশ্রুতি এই এনআরসি, সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে ১৯৮৩ সালে মারা যান ডালিমবাড়ির যুবক মদন মল্লিক। আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) তাঁকে ‘জাতীয় শহিদ’-এর স্বীকৃতি দেয়। সরকার পরিবারকে দেয় স্মারক ও পাঁচ লক্ষ টাকা। কিন্তু তাঁর স্ত্রী সর্ববালা দেবী ও পরিবারকে ডি-ভোটার (নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারার দরুন ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া) করে দিয়েছে আসাম পুলিশ। আসুই ভুল করে ‘মল্লিক’ পদবিকে ‘সরকার’ লিখেছিল। কাল হলো সেটাই। মদনবাবুর স্ত্রী-পুত্র-সহ পরিবারের ১৩ জনের নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন।

দেশভাগের সময় আসামকে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন মরিগাঁওয়ের লাহরিঘাটের মৌলবি মহম্মদ আমিরুদ্দিন। বিধায়ক আমিরুদ্দিন ছিলেন আসাম বিধানসভার প্রথম ডেপুটি স্পিকার। মুসলিম লিগের প্রিমিয়ার সৈয়দ মহম্মদ শাহদুল্লার বিপক্ষে গিয়ে আসাকে ভারতে রাখার ক্ষেত্রে গোপীনাথ বরদলৈয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন আমিরুদ্দিন। কিন্তু তাঁর পরিবারের ১০০ জনের নামে পুলিশ সন্দেহজনক নাগরিকের নোটিস দেয়। তাঁদের মধ্যে ৭০ জনের নাম এনআরসিতে ওঠেনি।

প্রাক্তন আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নেতা বরপেটার নবকুমার দাসের স্ত্রী সবিতা দাসের নামও তালিকায় নেই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা গোপালকৃষ্ণ দাসের বাবা রঞ্জিৎ দাস ২২ বছর বিএসএফে ছিলেন। বাবা-ছেলে কারও নামই তালিকায় নেই।

প্রায় এক লক্ষ গোর্খা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে গোর্খা সংগঠনের দাবি। কামরূপ মহানগর জেলার মধ্যে পড়া সোনাপুর সার্কলে পূর্ব মালয়বাড়ি গ্রামের দুই হাজার লোকের মধ্যে দেড় হাজারের নামই বাদ পড়েছে।

তবে যাঁর করা মামলার জেরে এনআরসি নবীকরণ সেই ৮৫ বছর বয়সি, খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তনী প্রদীপ ভুঁইয়ার দাবি, তালিকাছুট ১৯ লক্ষকে ডি-ভোটার ঘোষণা করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হোক। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা