kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৮৭ বছরে এসে সিভি দিতে হবে থাপারকে? মোদির উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে বলার জের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৮৭ বছরে এসে সিভি দিতে হবে থাপারকে? মোদির উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে বলার জের!

ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার

ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার। 'এমেরিটা অধ্যাপিকা' হিসেবে থেকে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জীবনবৃত্তান্ত চেয়েছে।  সংবাদ মাধ্যমে এই চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এই প্রবীণ ইতিহাসবিদ। কোনও বায়োডাটা দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। 

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে। জেএনইউটিএ-এর পক্ষে থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমেরিটা অধ্যাপিকার স্ট্যাটাস আজীবনের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথিবী বিখ্যাত ইতিহাসবিদের কাছে তাঁর বায়োডাটা চেয়ে শুধু তাঁকে অসম্মান করেনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানকেও ভূলুন্ঠিত করেছে। অবিলম্বে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ক্ষমা চেয়ে থাপারের কাছে চিঠি পাঠানোর দাবি জানিয়েছে অধ্যাপক সংগঠন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বায়োডাটা চাওয়ার মধ্যে এমেরিটা স্টেটাস তুলে নেওয়া বা সেই কাজ চালিয়ে যাওয়া আটকানোর কোনও ব্যাপার নেই। এটা নিয়মমাফিক চাওয়া হয়েছে। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ নয় তো? তাঁদের মতে, যেভাবে গত বছর অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়েক এবং উৎসা পট্টনায়েকের দফতরে তালা ঝোলানো হয়েছে, এটাও সেই মনোভাবেরই অংশ।

রোমিলা থাপার ১৯৯৩ সালে এমেরিটা অধ্যাপকের সম্মান পেয়েছিলেন। জেএনইউ-কে প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ছয় দশকের অধ্যাপনা জীবন থাপারের। আন্তর্জাতিক সম্মানের তালিকাও দীর্ঘ। অক্সফোর্ডের সম্মানিত ডক্টরেট, আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সদস্যপদ প্রাপ্তি, 'ইতিহাসের নোবেল' বলে পরিচিত ক্লুগ পুরস্কারসহ বহু আন্তর্জাতিক সম্মানে সম্মানিত এই ইতিহাসবিদ। এরকম একজন মানুষের কাছে এই বায়োডাটা চাওয়া নিয়ে নতুন বিতর্কে পড়েছে জেএনইউ।

সূত্র : দ্য ওয়াল, ইন্ডিয়া টুডে 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা