kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুতুলের পায়ে প্লাস্টার করে শিশুর ভাঙা পায়ের চিকিৎসা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পুতুলের পায়ে প্লাস্টার করে শিশুর ভাঙা পায়ের চিকিৎসা!

খাট থেকে পড়ে মাত্র ১১ মাসের শিশু জিকরা মালিকের পা ভেঙেছে। কিন্তু ডাক্তার প্লাস্টার করলেন তার পুতুলের পায়ে! ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির লোক নায়েক হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের অর্থোপেডিক ব্লকের ১৬ নম্বর বেডে জিকরা মালিকের পা প্লাস্টার করে ট্রাকশনে ঝুলানো। আর পাশেই শুয়ে আছে তার খেলার বন্ধু পুতুল। তারও পা একইভাবে ঝুলানো!

এ ব্যাপারে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, একটু অভাবনীয় ব্যাপার হলেও এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক। জিকরা মালিক খাট থেকে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙে ফেলে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছিল না তাকে।

এদিকে তার আর্জি, বন্ধুর পা তার মতো করে বেঁধে না দিলে নাকি কিছুতেই চিকিৎসা নিবে না সে। তাই বাধ্য হয়েই ডাক্তাররা জিকরারের সঙ্গে তার পুতুল বন্ধু পুরোদস্তুর সুস্থ ‘পরি’র চিকিৎসাও করিয়েছেন। এখন দুই বন্ধু হাসপাতালের বিছনায় পাশাপাশি দিব্যি দিন কাটাচ্ছে!

এ ব্যাপারে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, হাসপাতালের বেডে দেখা যায়, জিকরারের পা ঝুলানো অবস্থায় নিজেই ফিডিং বোতল ধরে খাচ্ছে। পাশে শুয়ে তারই সাইজের পরি। তারও পা ঝুলানো। তবে তার মুখে ফিডিং বোতলটা নেই শুধু।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ডাক্তারেরা জানান, থাইয়ের হাড় ভেঙেছে জিকরারের। সেটা সারাতে প্রয়োজন হলো ট্রাকশনের। কিন্তু ভয় ও ব্যথায় শিশুটি কিছুতেই পায়ে প্লাস্টার করতে দিচ্ছিল না। তখন বাধ্য হয়ে ওকে ভোলাতে ওর পুতুলের পায়ে প্রথমে প্লাস্টার করে ট্রাকশন দেন তারা। পরিকে ওভাবে দেখে আশ্বস্ত হয়ে তারপর জিকরা পায়ে প্লাস্টার বাঁধতে দেয়।

এ সময় জিকরার মা ফারিন জানিয়েছেন, বাড়িতে পাঁচ সেকেন্ডও চুপ করে বসে না জিকরা। এদিকে ডাক্তারেরা বলেছিলেন পা সোজা না রাখলে কোনোদিন পা ঠিক হবে না। অগত্যা নিরুপায় হয়ে সবাই তাকে জোর করে নিয়ে আসে হাসপাতালে। সেখানেও প্রথমে কিছুতেই থাকবে না সে। কিন্তু পরি আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। জিকরা খুশি মনে পুতুল বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালের বেডে দিব্যি শুয়ে আছে!

জিকরার সঙ্গে তাঁর পুতুলের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা