kalerkantho

ফিরিয়ে দিয়েছে দুই হাসপাতাল, ট্রলিতেই মারা গেল শিশু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিরিয়ে দিয়েছে দুই হাসপাতাল, ট্রলিতেই মারা গেল শিশু

লরির চাকায় পিষ্ট হয়েছে শিশুটির বাম পা। সে কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে তাকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যালে পাঠানো হয় থাকে। কিন্তু শনিবার ভোরে পুলিশ জানায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। 

শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া হয়েছিল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, একের পর এক হাসপাতাল ভর্তি নিতে না চাওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে তাদের সরকারি হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। 

ওই শিশুর চাচা জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিক্যালের চিকিৎসকরা আমাদের মেয়ের পায়ের রক্তাক্ত ব্যান্ডেজে হাতও লাগাতে চাননি। আমাদেরই ব্যান্ডেজ খুলে দেখাতে বলা হয়।

সাড়ে তিন বছরের ওই শিশুটির নাম মেহনাজ তাবাসসুম। শুক্রবার সকালে দাদার সঙ্গে স্কুল থেকে ফিরছিল সে। বাড়ির কাছে নাতনিকে ছেড়ে দিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন দাদু। তখনই রাস্তার উপরে চলে আসা মেহনাজের বাম পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় লরির চাকা। 

বাড়ির পাশের গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মেহনাজকে ন্যাশনাল মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটির বাবা শরিফুল ইসলাম মোল্লার অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিক্যালেও মেহনাজকে ফেলে রাখা হয়। তার পর বলা হয় এনআরএসে নিয়ে যেতে। 

জাহাঙ্গীরের কথায়, এনআরএসে গিয়েও একই অবস্থা। এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে ঘোরানো হয়। একটা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের সামনের বড় রাস্তা পার করে অন্য দিকে যেতে হয়। তখন মেয়েটার পা থেকে সমানে রক্ত ঝরছিল। মেয়েটার ওই অবস্থা দেখেও ভর্তি নিতে চাইছিল না তারা।

অনেক অনুরোধের পর রাতের জন্য এনআরএসে একটি ট্রলিতে মেহনাজকে রাখার ব্যবস্থা করা হয় বলে দাবি তার পরিবারের। ভোরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ন্যাশনাল মেডিক্যাল এবং এনআরএস, দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এর পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মেহনাজের পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। তার পর অভিযোগ নেওয়া হবে। 

জাহাঙ্গীর বলেন, পুলিশ বলছে শেষ কাজ মেটার পর তাদের কাছে গিয়ে জানালে ব্যবস্থা নেবেন।

হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে আগেও বহু রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ছয়টি হাসপাতাল ঘুরে গোবরডাঙার অগ্নিদগ্ধ শিশুকন্যা রিয়া দাসের মৃত্যুর পর ‘রেফার’ করা আটকাতে নির্দেশিকাও জারি করে স্বাস্থ্য ভবন। তার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি।

এনআরএসের সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শয্যা ফাঁকা না থাকলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ট্রলিতে রোগীদের ভর্তি নিতে হয়। কিন্তু রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও কি অন্য ব্যবস্থা নেই? সৌরভ অবশ্য সে ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি।

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। রাজ্যের স্বাস্থ্য-অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, হাসপাতালগুলোকে এভাবে রেফার না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বস্তরে সেই নির্দেশ পৌঁছেছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে, সেটাও দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা