kalerkantho

ছাত্র রাজনীতি থেকে ভারতের অর্থমন্ত্রী, একনজরে অরুণ জেটলির জীবনী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ২০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্র রাজনীতি থেকে ভারতের অর্থমন্ত্রী, একনজরে অরুণ জেটলির জীবনী

ভারতের কর কাঠামোকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই প্রথমবার ক্ষমতায় এসে মোদি সরকার চালু করেছিল পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি। বিজেপি এবং সরকারের নির্ভরযোগ্য বক্তা ছিলেন তিনি। 

বারবার গর্জে উঠেছে তার দ্ব্যর্থ কণ্ঠ। গত ৯ আগস্ট শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জীবনাবসান ঘটল শনিবার। ৬৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (অল্প সময়) অরুণ জেটলি।

এক নজরে তার জীবনী

১৯৫২ সালে দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন অরুণ জেটলি। তার বাবার নাম মহারাজ কিষাণ জেটলি ও মায়ের নাম রতন প্রভা। কলেজ জীবন থেকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় অরুণ জেটলির। সংঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সদস্য হিসেবে ১৯৭৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় জেলে যান অরুণ জেটলি। এরপর ছাড়া পেতেই প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেন। সঙ্গে দিল্লি হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজও শুরু করেন তিনি।

১৯৮০ সালে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সদস্য হন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে তাকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল নিযুক্ত করে তত্‍কালীন ভিপি সিং সরকার এবং ১৯৯০ সালে বোফর্স কেলেঙ্কারির তদন্তের জন্য নির্মিত তিন সদস্যের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হন অরুণ জেটলি।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ১৩ মাসের সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন অরুণ জেটলি। এছাড়া সামলে ছিলেন আরো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাড়তি দায়িত্ব। সেই সময় দলের অন্দরেও ক্ষমতা বৃদ্ধি হয় তার। সুষমা স্বরাজ ও প্রমোদ মহাজনের সঙ্গে জাতীয় মুখপাত্র নির্বাচিত করা হয় তাকে। 

২০০০ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে প্রথমবার সংসদে পা রাখেন অরুণ জেটলি। বাজপেয়ী সরকারের আমলে পূর্ণ সময়ের জন্য ভারতের আইনমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান তিনি।

২০০৪ সালে আবার কেন্দ্রের ক্ষমতায় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার ফিরে এলে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলান অরুণ জেটলি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাবের অমৃতসর আসন থেকে লড়াই করলেও পরাজিত হন তিনি। কিন্তু তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেননি নরেন্দ্র মোদি। বরং তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে অর্থ ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অরুণ জেটলির হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে কিছুদিনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সে কারণে ২০১৯ সালের নির্বাচনে আর অংশগ্রহণ করেনি বাজপেয়ী-আডবানীর শিষ্য এই বিজেপি নেতা। মন্ত্রীসভাতেও থাকতে চাননি। কিন্তু দলের হয়ে কাজ করে গেছেন সর্বক্ষণ।

কালের নিয়মে শনিবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে থামলেন তিনি। শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন 'এক দেশ, এক কর' নীতি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগকর্তা অরুণ জেটলি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা