kalerkantho

আমাজনের আগুন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাম-ডান তীব্র বিতর্ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ২০:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমাজনের আগুন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাম-ডান তীব্র বিতর্ক

প্রবল প্রতিবাদ ও আমাজোনিয়ানদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে আগুন রুখতে তৎপর হল ব্রাজিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনি। অন্যদিকে শুক্রবার থেকেই আগুন নেভাতে উদ্যোগী আমাজনের অপর অংশীদার দেশ বলিভিয়া। বিরাট বিমানের সুপার ট্যাংকারে আকাশ থেকে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।

বিবিসি, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বনের আগুন ঘিরে তৈরি হয়েছে বাম-ডান রাজনৈতিক বিতর্ক। যার কেন্দ্র ব্রাজিল ও বলিভিয়ার দুই বিপরীত রাজনৈতিক মেরুর সরকার। ব্রাজিল ডানপন্থী ও বলিভিয়া বামপন্থী। আমাজন রেইন ফরেস্টের আগুন থামাতে ব্রাজিল সরকার ও প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো-এর অবস্থান প্রবল সমালোচিত। বিরাট এই বনাঞ্চল বিশ্বের ফুসফুস বলে সুপরিচিত। সেখানেই লেগেছে আগুন। প্রাকৃতিক কারণ নয় এর পিছনে রয়েছে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা। তা নিয়েই চলছে চর্চা।

তবে ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যথেচ্ছ বেসরকারি সংস্থাকে আমাজনের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়াই বিপদ ডেকে এনেছে। অপরদিকে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের নির্দেশে চলছে সুপার ট্যাংকারে করে আকাশ থেকে পানি ফেলার কাজ। সে সঙ্গে তিনশ বলিভিয়ান ফায়ার ফাইটার হেলিকপ্টার করে আগুন নেভাতে নেমে পড়েছেন। আমাজন দাবানল তৈরি করেছে বিশ্বজোড়া বাম-ডান শিবিরে তীব্র বিতর্ক। বহু চর্চিত এই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে দাবানলের আগুন বিরাট পরিমাণে ছড়িয়ে যাওয়ায়। ব্রাজিলে এই মুহূর্তে ডানপন্থী সরকার। প্রেসিডেন্ট বলসোনারো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ। আর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লুলা বন্দি। তিনি বাম ঘনিষ্ঠ।

অভিযোগ উঠেছে, মার্কিনি চাপে আমাজন বনাঞ্চলকে কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দিতে গিয়েই ব্রাজিলের বর্তমান সরকার বিপদ ডেকে এনেছে। আগুন আয়ত্তের বাইরে বুঝেই বেসরকারি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট বলসোনারো। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধেও আমাজন অববাহিকার বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর ক্ষোভ চরমে উঠেঠে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সামিল হয়েছে বনরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে আমাজন বনাঞ্চলের অপর অংশীদার দেশ বলিভিয়ার এলাকাতেও ছড়িয়েছে আগুন। সেই আগুন নেভাতে শুরু থেকেই উদ্যোগী বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। তাঁর নেতৃত্বে চলছে বামপন্থী সরকার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, গত শুক্রবার থেকেই তিনি বারবার ব্রাজিল সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আগুন রোখার কাজে নামতে বলেন।

কিন্তু বলিভিয়ার আহ্বানে সাড়া দেয়নি ব্রাজিল। এরপর বলিভিয়া বিরাট বিমানে সুপার ট্যাংকারে করে হাজার হাজার লিটার পানি ছড়িয়ে আগুন নেভানের কাজ শুরু করে। এই উদ্যোগে স্বাগত জানায় আন্তর্জাতিক মহল। এরপর থেকেই আমাজনের আগুন ও ব্রাজিল-বলিভিয়ার অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাম-ডান শিবিরের দ্বন্দ্ব বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সামাজিক গণমাধ্যমে চলছে ঝড়। দুপক্ষই পরস্পরের দিকে তীক্ষ্ণ যুক্তিবাণ ছুঁড়ছে। আমাজনের দাবানল তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংঘাত।

কারণ দক্ষিণ আমেরিকার ৯টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই বনভূমি। তারই একটি হল ফ্রেঞ্চ গায়ানা। ফ্রান্সের অধীনস্থ হওয়ায় আগুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি জি-৭ বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের প্রথম আট মাসে ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি আগুন লেগেছে। ২০১৩ সালের পর এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পুরো ২০১৮ সালে বনাঞ্চলে মোট আগুল লাগার সংখ্যা ছিল ৩৯,৭৫৯ টি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা