kalerkantho

১২ ঘণ্টায় জানা গেল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক, স্বামী গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ ঘণ্টায় জানা গেল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক, স্বামী গ্রেপ্তার

ভারতের কলকাতায় গতকাল শুক্রবার ভর সন্ধ্যায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। চায়না টাউনে শ্বশুর ও পুত্রবধূকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দু’জনকে মাথায় ও মুখে অ্যালুমিনিয়মের বালতি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে সেই রক্তমাখা বালতিও উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু, কে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে? হত্যার পেছনে কারণ কী? এসব প্রশ্ন ভাবাচ্ছিল তদন্তকারীদের। শেষ পর্যন্ত, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ধরা পড়ল হত্যাকারী। স্ত্রী ও বাবাকে হত্যার অভিযোগে লি ওয়ান সং নামে চিনা বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ চায়না টাউনের বাসিন্দা লি ওয়ান সং বাড়ি ফিরে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সং পুলিশকে প্রথমে জানান, অনেক ডাকাডাকিতেও দরজা না খোলায় মই লাগিয়ে পাঁচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন তিনি। বাড়িতে বাবা লি কা সং (৯০) এবং স্ত্রী লি হাউ মেইহা (৬০) –কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ওয়ান। 

এর পর, তিনি ট্যাংরা থানায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে আসে ট্যাংরা থানার পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ। আসেন গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মাও। দু’জনকে যে খুন করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা। 

তবে, লুট নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ, হত্যার পেছনে কারণ কী? তা নিয়ে প্রথমে ধন্দে ছিলেন তারা। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বারবার বক্তব্য পাল্টাতে থাকেন সং। সন্দেহ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত লি ওয়ান সং নামে ওই চীনা বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশের দাবি, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্ত্রীকে হত্যা করেন লি ওয়ান সং। ৯০ বছর বয়সী বাবাকেও রেহাই দেননি তিনি। বালতির আঘাতে তাকেও হত্যা করেন। 

পুলিশের দাবি, এর পর বাড়ি ছেড়ে চলে যান লি। ঘণ্টা দেড়েক বাদে ফিরে আসেন। নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে পুলিশেও খবর দেন। পুলিশের অভিযোগ, অন্য দিকে তদন্তের মোড় ঘোরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

কেন স্ত্রীকে হত্যা করলেন লি? পুলিশের দাবি, এলাকায় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তা জেনে ফেলেছিলেন তার স্ত্রী। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রতিদিন অশান্তি লেগে থাকত। শুক্রবার তা চরমে উঠেছিল। 

স্ত্রীকে বালতি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার দৃশ্য দেখে ফেলেন লি-র বাবা। তাই বাবাকেও রেহাই দেননি তিনি। গত ৭০-৮০ বছর ধরে কলকাতায় রয়েছেন ওই চীনা পরিবার। তাদের সন্তানরা বিদেশে রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা