kalerkantho

রবিবার । ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাঘিবের বদলে চালকদের দুর্ঘটনার দায় নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:০৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাঘিবের বদলে চালকদের দুর্ঘটনার দায় নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল

কলকাতার শেকসপিয়র সরণিতে জাগুয়ার দুর্ঘটনায় কেন আরসালান পারভেজকে আত্মসমর্পণ করানো হয়েছিল, সে ব্যাপারে ধোঁয়াশা এখনো রয়েছে। তবে তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, রাঘিব পারভেজকে বাঁচানোর জন্য অনেককেই সেই দায় নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। 

ওই তালিকায় কয়েক জন গাড়িচালকও আছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার দায় নিতে কেউ রাজি হয়নি। সে কারণে ওই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমনটাই জানা গেছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে।

সপ্তাহখানেক আগে শেকসপিয়র সরণিতে জাগুয়ার দুর্ঘটনার সময় ওই গাড়িতে আরেকজন ছিলেন। সে কথাও তদন্তকারীদের কাছে বেমালুম চেপে গিয়েছিল আরসালান পারভেজের পরিবার। পরে সে কথা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। 

গতকাল রাঘিবের ওই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দারা। তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ওই যুবকের মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে বলেও আজ জানা গেছে। 

আদালতে ওই ‘বন্ধু’র গোপন জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারীরা। রাঘিব এবং তার বন্ধুকে নিয়ে খুব শিগগিরই ঘটনা পুর্নগঠন করবেন গোয়েন্দারা। সেন্ট জেমস-এর প্রিন্সিপালের ছেলের জন্মদিনের পার্টি থেকে কোন পথে ফিরছিলেন তারা, দুর্ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল, তা দেখা হবে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মামা মুহাম্মদ হামজাকে ফোন করেছিলেন রাঘিব পারভেজ। তার পরামর্শেই দুবাইয়ে আত্মগোপন করেন রাঘিব। কিন্তু রাঘিব এভাবে কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারেননি বাবা আখতার পারভেজ। উল্টো তিনি আত্মসমর্পণ করতে বলেন রাঘিবকে। 

তাতে বাধা দেন হামজা। ভাগ্নেকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে একবারেই রাজি ছিলেন না তিনি। তার জায়গায় কোনো চালককে এই দুর্ঘটনার দায়ভার নেওয়ার জন্য ‘চাপ’ দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চালক দুর্ঘটনার দায় নিতে চাননি। এ ভাবে অন্যকে ‘ফাঁসিয়ে’ দেওয়ার বিষয়টিতেও আপত্তি জানান আরসালান বিরিয়ানি চেনের মালিক আখতার পারভেজ।

এই পরিস্থিতিতে দুই ভাগ হয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। কাউকে কিছু না জানিয়ে দুর্ঘটনার পর দিন গত শনিবার রাঘিবকে দুবাইয়ে পাঠিয়ে দেন হামজা। তাতে ক্ষুব্ধ হন আখতার। 

কোনো উপায় না দেখে, শেষ পর্যন্ত আখতার পারভেজ দুর্ঘটনার দায়ভার নিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছিলেন। পারিবারিক ওই অশান্তির জেরে ছোট ছেলে আরসালান পারভেজ মামার সঙ্গে ডিসি (দক্ষিণ) মিরাজ খালিদের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা