kalerkantho

আমাজনের দাবানল অশনি সঙ্কেত, আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠার শঙ্কা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমাজনের দাবানল অশনি সঙ্কেত, আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠার শঙ্কা

তিন সপ্তাহ ধরে 'পৃথিবীর ফুসফুস' খ্যাত আমাজন জঙ্গল জ্বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, দাবানলের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে সাত হাজার ৭৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। আমাজনের এই দাবানল এক অশনি সঙ্কেত! এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। যে আমাজন অরণ্যকে আমরা ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলে জানি; বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, সেই আমাজনই আগামী দিনে হয়ে উঠতে পারে আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণ। আতঙ্কেরও!

নাসার সহযোগিতায় আমেরিকা ও কানাডার বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা, ‘আর্কটিক-বোরিয়াল ভালনারাবিলিটি এক্সপেরিমেন্ট (অ্যাবাভ)’ জানাচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য বোরিয়ালের মতো বৃষ্টি-অরণ্য (রেইন ফরেস্ট) বা চিরহরিৎ অরণ্যগুলিতে দাবানলের ঘটনা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ওই অরণ্যগুলিতে ঘন ঘন দাবানল হচ্ছে। বেড়েছে সেই দাবানলের প্রাবল্য। বেড়েছে ভয়াবহতাও।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এর গত ১৬ অগস্ট সংখ্যায়। নাসার বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি চালিয়েছেন উত্তর-পশ্চিম কানাডার বোরিয়াল বৃষ্টি-অরণ্যের উপর। তবে তাদের বক্তব্য, এই পর্যবেক্ষণ আমাজনের মতো অন্য বৃষ্টি-অরণ্যগুলির ক্ষেত্রেও সঠিক প্রমাণিত হতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন, দাবানলের সংখ্যা ও প্রাবল্য অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার ফলে গাছের পাতা, কাণ্ড, ডালপালা পুড়ে গিয়ে কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো আরো বেশি পরিমাণে বাতাসে জমা করছে। সেই সঙ্গে মাটির নিচে থাকা কার্বনও পুড়ে গিয়ে বাতাসের কাঁধে গ্রিনহাউস গ্যাসের বোঝাটা অসম্ভব ভারী করে তুলছে। উত্তরোত্তর। যা পৃথিবীর ‘জ্বর’ বা উষ্ণতা বাড়ানো আরো দ্রুত, আরো বেশি হারে বাড়ানোর রাস্তাটাকে খুলে দিচ্ছে।

বোরিয়ালে এর আগের কোনো দাবানলেই মাটির নিচে থাকা কার্বন কিন্তু উপরে উঠে এসে এ ভাবে পরিবেশের এতটা ক্ষতি করেনি। কিন্তু এই গবেষণা দেখায়, ২০১৪ সালের দাবানলে বোরিয়াল অরণ্যের যে অংশটি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, তার অন্তত ১২ শতাংশেই মাটির নিচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লুকিয়ে থাকা কার্বন মাটির উপরে উঠে এসে পুড়ে গিয়ে বাতাসে বিষের বোঝা ভারী করেছে।

আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর বিজ্ঞানী কুমার রঙ্গনাথন ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ডিজিটালকে বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, বোরিয়ালের শুধু ওই ১২ শতাংশ অরণ্য পুড়ে যাওয়ার ফলেই ৮৮ লাখ টন কার্বন বাতাসে মিশেছে। অথচ তার আগে যতো দাবানল হয়েছে বোরিয়ালে, সেই সবক’টির ফলে মাটির নিচে লুকনো মোট ১০ কোটি ৪০ লাখ টন কার্বন উপরে উঠে এসে পরিবেশে মিশেছিল! তা হলে চিন্তা করে দেখুন, দাবানলের ঘটনা ও প্রাবল্য বেড়ে যাওয়ার ফলে কী ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়েছে বোরিয়াল অরণ্যের ওই অংশে। শুধু ২০১৪ সালেই!’

সূত্র: আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা