kalerkantho

অতিরিক্ত ভালোবাসার চাপে পড়ে বিচ্ছেদ চাইতে আদালতে স্ত্রী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অতিরিক্ত ভালোবাসার চাপে পড়ে বিচ্ছেদ চাইতে আদালতে স্ত্রী!

ভালোবাসা সব সময় সুখের হয় না। কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে শোকের কারণ। আবার অতিরিক্ত ভালোবাসাই কাল হয়ে দাঁড়ায় সংসার জীবনে। তখন ভালোবেসে যাই করেন সব কিছুই হয়ে উঠতে পারে বিরক্তির কারণ!

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরা এলাকার শরিয়ায় এক স্বামী স্ত্রীকে সবসময় প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতেন। রান্না করা থেকে ঘর পরিষ্কার, বাজার করা থেকে সংসারের যাবতীয় কাজ কোনো কিছুই স্ত্রীকে করতে দিতেন না স্বামী। এমনকি ঝগড়াও করেন না। প্রথম বিষয়টি ভালো লাগলেও আস্তে আস্তে বিষয়টি বিরক্তিকর হয় উঠে স্ত্রীর কাছে। দমবন্ধ পরিবেশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, ঝগড়া করার জন্য স্বামীকে রাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন স্ত্রী। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বরং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়। স্বামীর এই আচরণে বিরক্ত হয়েই শেষমেষ বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে আদালতে ছুটলেন স্ত্রী। তাদের নিরাপত্তার স্বর্থে নাম প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যগুলো।

এদিকে স্ত্রীর এই ধরনের আচরণে অবাক স্বামী। তিনি বলেন, আমি তো খারাপ কিছু করিনি। একজন আদর্শ ও ভদ্র স্বামী হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। একবার আমার স্ত্রী শরীরের ওজন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। তাই ডায়েট চার্ট মেনে খাবার খেয়ে ও ব্যায়াম করে শরীরের মেদ ঝড়িয়েছিলাম। আমার মনে হয় বিয়ের প্রথম বছরেই সম্পর্ক গভীরতা ঠিক বোঝা যায় না। আরও কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি মানুষই তাদের ভুল থেকে শেখে।

ওই নারীর আবেদন শুনে হতবাক হয়ে যান বিচারক। আদালতে দাখিল করা আবেদনে ওই নারী জানান, এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের। বিয়ের পর থেকে তার প্রতি স্বামীর ভালবাসা দেখে আপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রমশ তা দমবন্ধ পরিস্থিতির সামিল হয়ে উঠে। তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে একটা দিনও আমাদের ঝগড়া হয়নি। তাই আমি সবসময় প্রার্থনা করতাম যেন একদিনের জন্য হলেও অশান্তি হয়। ও আমাকে বকাবকি করুক। কিন্তু, কোনোদিনই এমনটা হয়নি। ফলে নিরুত্তাপভাবে কাটছিল আমার জীবন। বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই।

এই ঘটনা শুনে বিচারক হতবাক হয়ে গেছেন। কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত দেননি তিনি। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আরো কিছুদিন ওই দম্পতি একসঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্থানীয় বিচারক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা