kalerkantho

'আজাদি' চেয়ে 'গান সলিউশন' স্লোগানে উচ্চকিত শুক্রবারের কাশ্মীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারতের কেন্দ্র থেকে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একের পর এক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কাশ্মীরের রাজপথ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসেন নারীরাও।

ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে একজন বলেন, শুনে রাখ ভারত, আমরা মাথা নত করার মানুষ নই। আমরা নত হতে জানি না। এমনকি আমরা যদি আজ সফল হতে না পারি, মনে রাখবেন, আমাদের ইতিহাস কিন্তু মুছে ফেলা হবে।

আরেকজন বলেন, আমি স্বাধীনতা চাই। এমনকি যদি মারাও যাই, তার পরেও স্বাধীনতা চাই। আমার কফিনের ওপর যেন লেখা থাকে স্বাধীনতা।

আরেকজন বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'এখানে একটাই সমাধান।' জনতা চিৎকার করে বলতে থাকে, গান সলিউশন, গান সলিউশন।এছাড়া 'গো ইন্ডিয়া গো ব্যাক'সহ নানা ধরনের স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে রাজপথ।

ওইসময় ভারতের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও বাঁধে। কাঁদানে গ্যাসের শেল এসে পড়লে, কাশ্মীরের বাসিন্দারা ইট ছুঁড়তে থাকে। এমনকি নারীদেরও ইটের ভাঙা অংশ নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। 

এক নারী বলেন, তারা (ভারতের সেনাবাহিনী) জানালা ভেঙে ফেলেছে। কাঁদানে গ্যাসের শেল এইদিক দিয়ে ভেতরে এসেছে। সে কারণে একপর্যায়ে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

অরেকজন বলেন, আমরা বিচার চাই। আমার ছেলেও বিচার চাই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক কাশ্মীরী বলেন, তারা (ভারতের সেনাবাহিনী) যখন আমাকে দেখেছে, ওই সময়ই গুলি চালায়। এখানে যে সরকার আছে, তারা চাইলেই যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো কিছু করতে পারে। তারা চাইলেই গুলি চালাতে পারে। তাদের মন চাইলেই গুলি করে দিতে পারে।

ওই ব্যক্তির সারা শরীরে অসংখ্য বুলেটের ক্ষত। এমনকি এক্সরে রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, শরীরে অনেকগুলো বুলেট ঢুকে আছে। সেগুলো বের করার পর ক্ষত হয়ে আছে তার গায়ে। ব্যান্ডেজ খুলে বিভৎস এক ক্ষত দেখান তিনি।

গুলিবিদ্ধ আরেক কাশ্মীরি বলেন, আমি একটু সুস্থ হলেই আবারো যাবো (আন্দোলনে)। 

আরেক ব্যক্তি বলেন, এখানকার কোনোকিছুই স্বাভাবিক নয়। আমার বাচ্চারা প্রতি রাতে আমার কাছে জানতে চায়, মামা কেন মারা গেল। এটা শোনা খুবই কঠিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা