kalerkantho

বিয়ে অনিশ্চিত জেনেও শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিয়ে অনিশ্চিত জেনেও শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বিয়ে হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকার ব্যাপারে জেনেও যদি কোনো নারী দিনের পর দিন কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকেন, তাহলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা যাবে না। বুধবার একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনটাই জানিয়ে দিল ভারতের শীর্ষ আদালত।

ভারতের সিআরপিএফের এক ডেপুটি কমান্ডান্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন সেলস ট্যাক্সের একজন সহকারী কমিশনার। প্রায় ছয় বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন তারা এবং মাঝে মধ্যে লিভ-ইন করতেন। 

এছাড়া একে অন্যের বাড়িতে গিয়ে থাকতেন এবং স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে। ফলে আর পাঁচটা সম্পর্কের মতো তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছিল এবং একে 'স্বাভাবিক সম্পর্ক' বলেই আখ্যা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সাল থেকে সিআরপিএফের ওই কর্মকর্তাকে চিনতেন অভিযোগকারী নারী। কিন্তু এখন তার অভিযোগ, ২০০৮ সালে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে বলপূর্বক ধর্ষণ করা হয় তাকে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দু'জনের সম্পর্ক চলে। ওই সময়ের মধ্যে একে অন্যের বাড়িতেও থাকেন। 

কিন্তু ২০১৬ সালে জাত-পাতের কারণে সিআরপিএফের ওই কর্মকর্তা বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। কিন্তু দু'জনের সম্পর্ক তখনও টিকে ছিল। এরপর ২০১৬ সালে অন্য এক নারীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় ওই ব্যক্তির। এরপরই সিআরপিএফের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নিজের পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানায়, প্রতিশ্রুতি দুই রকমের হয়ে থাকে। একটা হলো, যেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিটাই মিথ্যা। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি করার সময় তারপর তা মেনে চলার কোনো লক্ষণ ছাড়াই শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। সেটাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বলা যেতে পারে। 

অন্যদিকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভেঙে যাওয়াকে কখনোই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে না। একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি তখনই 'মিথ্যা' প্রমাণিত হয় যখন সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় তার পিছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা