kalerkantho

নতুন শতাব্দী নিয়ে ট্রাফিক এর প্রতিবেদন

তেইশ শর বেশি বাঘ হত্যা ও পাচারের শিকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তেইশ শর বেশি বাঘ হত্যা ও পাচারের শিকার

নতুন শতাব্দী শুরুর পর থেকে বিশ্বে এ পর্যন্ত তেইশ শরও বেশি বাঘ শিকারি এবং চোরাকারবারিদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গলবার বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে এমন একটি গ্রুপ ‘ট্রাফিক’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে ব্যাপক হারে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাঘ রক্ষায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেনেভায় বিপন্ন প্রজাতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বাঘ সংরক্ষণ গ্রুপ ‘ট্রাফিক’ জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বে অবৈধভাবে পাচার করা ১২০টিরও বেশি বাঘ আটকের ঘটনা ঘটে। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে দুটিরও বেশি বাঘ পাচার হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এমন অবস্থা সত্ত্বেও বাঘ রক্ষায় পদক্ষেপের উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংস্থাটির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান এবং প্রতিবেদন লেখক কানিথা কৃষ্ণস্বামী বলেন, ‘যে হারে বাঘ হারিয়ে যাচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। মনে হচ্ছে বাঘ রক্ষার লড়াইয়ে আমরা হেরে যাচ্ছি।’

১৯ শতকে বিশ্বে এক লাখের বেশি বাঘ বন-জঙ্গলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। কিন্তু ২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী বাঘের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। এ সময়ে মাত্র তিন হাজার ২০০টি বাঘের দেখা পাওয়া যায়। সে সময় থেকে গত ৯ বছরে বাঘের সংখ্যা একটু বেড়েছে, তবে মোট সংখ্যা এখনো চার হাজারে পৌঁছতে পারেনি। বাঘের সংখ্যা তিন হাজার ৯ শরও কম। কৃষ্ণস্বামী বলেন, ‘কথা বলার সময় এখন শেষ। বাঘ রক্ষায় এখন কথাকে কাজে পরিণত করতে হবে।’

‘ট্রাফিক’ বিপন্ন প্রজাতির বাঘ রক্ষায় প্রচার চালিয়ে থাকে এবং পাচারকারীদের ধরতে সরকারকে সহায়তা করে থাকে। সংস্থাটি গত ১৯ বছর বিশ্বব্যাপী পাচারকারীদের হাত থেকে যেসব বাঘ উদ্ধার করেছে তার একটি উপাত্ত প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৩২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে দুই হাজার ৩৫৯টি বাঘ উদ্ধার করেছে। তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। গড়ে প্রতিবছর ৫৮টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, জীবিত অথবা মৃত বাঘ উদ্ধারের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব বাঘের অর্ধেকেরও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাঘ প্রজননকেন্দ্রগুলো বাঘের অবৈধ ব্যবসাকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তবে বাঘের খামার মালিকরা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, তাদের ব্যবসার কারণে বনের বাঘের ওপর চাপ কম পড়ছে। 

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা