kalerkantho

কাশ্মীরে স্কুলে ছাত্র নেই; সেনা বহাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ আগস্ট, ২০১৯ ১২:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীরে স্কুলে ছাত্র নেই; সেনা বহাল

কাশ্মীরে স্কুল খুললেও শ্রেণীকক্ষ ফাঁকা

সোমবার প্রায় ২০০ স্কুল খুলেছে ভারতীয় কাশ্মীরে। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলেই আসেনি  ছাত্ররা। সুনসান ক্লাসরুম, ফাঁকা খেলার মাঠ। দিনভর স্কুল চত্বরেই দাঁড়িয়ে রইল সারি দেওয়া স্কুলবাস। এদিকে কার্ফু উঠতেই যেভাবে শ্রীনগর-সহ উপত্যকার বিভিন্ন অংশে পাথর ছোড়া ও বিক্ষোভের খবর এসেছে। এতে আজ নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি মোটের উপরে স্বাভাবিক হলেও তাই মোতায়েন হওয়া বাড়তি সেনা সদস্যদের এখনই সরিয়ে দিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার।

ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস নির্বিঘ্নে কেটে যেতেই উপত্যকায় ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করে ফোন সংযোগ। আজ শ্রীনগরের ১৯৬টি প্রাথমিক স্কুল খুলেছিল। তবে কেবল বেমিনার 'পুলিশ পাবলিক স্কুল' ও কয়েকটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে কয়েকজন ছাত্র এসেছিল। তারা অধিকাংশই সামরিক বাহিনীর কর্মীদের ছেলেমেয়ে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কর্মীরাই। 

গোলমালের আশঙ্কায় ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাতে রাজি নন অধিকাংশ অভিভাবকই। শ্রীনগরের নাটিপোরার বাসিন্দা সাফিয়া তাজামুল বলছেন, সরকার বাচ্চাদের জীবন বিপন্ন করে বোঝাতে চাইছে কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রদের বয়স ১২-এর নীচে। পথে গোলমাল হলে কে আমাদের খবর দেবে? কাশ্মীরে তো প্রায় সব যোগাযোগই বন্ধ।

শ্রীনগরের আরেক বাসিন্দা নাসির মিরের বক্তব্য, সরকার চায় ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যাওয়া ছাত্রদের ভিডিও দেখাতে। স্কুল খোলার পরিস্থিতি হয়নি। কিন্তু দুপুরের পর থেকে শ্রীনগরের বিভিন্ন অংশে পাথর ছোড়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। নিরাপত্তাবাহিনীর পাশাপাশি নিশানা করা হয় যানবাহনকেও। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে একাধিক গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। আহত হন অনেকে। 

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে তাই আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোয়েন্দা প্রধান অরবিন্দ প্রধান। ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। গত ৪ অগস্ট থেকে উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন ডোভাল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, যেভাবে প্রথম দিনেই বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে, তাতে কোনও ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষপাতি নয় কেন্দ্রীয় সরকার। আশঙ্কা রয়েছে, যতই নিরাপত্তায় ঢিলে দেওয়া হবে, ততই পথে নামবে কাশ্মীরের যুবকেরা। সক্রিয় হবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি। তাই অন্তত গোটা অাগস্ট মাস বাড়তি বাহিনী উপত্যকায় রাখার পক্ষপাতি সরকার। 

এদিকে, গত ৪ আগস্ট থেকে অশান্তি এড়ানোর যুক্তি দেখিয়ে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করে প্রশাসন। এখনও বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাননি ওই নেতারা। আটক নেতাদের মধ্যে শাহ ফয়সল দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন। এটা নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। 

সূত্র : আনন্দবাজার 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা