kalerkantho

ঘাতক আরসালান পুলিশ হেফাজতে, কড়া ধারায় মামলা দায়ের

আনিতা চৌধুরী, কলকাতা    

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘাতক আরসালান পুলিশ হেফাজতে, কড়া ধারায় মামলা দায়ের

দুজন বাংলাদেশি নাগরিক কাজি মহম্মদ মইনুল আলম এবং ফারাহানা ইসলাম তানিয়াকে গাড়ির চাকায় পিষে দেওয়ার ঘটনায় আপাতত পুলিশ হেফাজতেই থাকতে হবে আরসালান পারভেজকে। কলকাতার শেকসপিয়ার সরণিতে গাড়ির ধাক্কায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত আরসালান পারভেজকে ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিলেন ব্যাঙ্কশাল আদালত।

রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় তাকে। কলকাতা পুলিশ যে এই ঘটনাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় যখন সরকারি আইনজীবী ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন জানান। তবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরিবর্তে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতেই রাখা হবে পারভেজকে।

শনিবার সারা দিনের তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত, এটি আচমকা ভুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নয়, বরং দুর্ঘটনার আগে থেকেই নিয়ম ভেঙে বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন আরসালান পারভেজ। দুর্ঘটনার একটু আগেও ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙেছিলেন ঘাতক জাগুয়ারের চালক, বলেন এক সূত্র। 

এরই মধ্যে ইসিসিটিভি ফুটেজ এবং স্পিডোমিটারের নানা তথ্য খুঁটিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। তাতেই পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কলকাতার ময়দানের দিক থেকে লাউডন স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত একাধিকবার সিগন্যাল ভাঙে পারভেজ। রাস্তায় বেরোনোর পর থেকে প্রায় ৮০-৮৫ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালান নামি রেস্তোরাঁর মালিকের ছেলে। দ্রুতগতির জেরে বেসামাল হয়ে জাগুয়ার নিয়ে একটি মার্সিডিজে ধাক্কা মারে পারভেজ। এতটাই জোরে ধাক্কা মারে যে মার্সিডিজ গিয়ে আছড়ে পড়েছে ফুটপাথের পুলিশ কিয়স্কে। বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচাতে সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন পথচারী। বিনা মেঘে বাজের মতো নিমেষে জাগুয়ারের চাকা পিষে দেয় এক মহিলাসহ দুজনকে। 

কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। কাজি মহম্মদ মইনুল আলম এবং ফারাহানা ইসলাম তানিয়া নামে দুজনকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। দুজনেই দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

আরসালানকে রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। শনিবার পুলিশ আরসালানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯ (বেপরোয়া গাড়ি চালানো), ৪২৭ (অন্যের সম্পত্তি নষ্ট), ৩০৪/২ (অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা) দায়ের করেছিল। রবিবার দুটি জামিন-অযোগ্য ধারাও জোড়া হয়। এ দুটি হলো ৩০৮ (অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা) এবং পিডিপিপি আইনের ৩ নম্বর ধারা (সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস)।

এই ঘটনায় দুই নিরীহ বাংলাদেশের মানুষ মারা গেছেন। আমরা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির চেষ্টা করব, বলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা