kalerkantho

‘পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে ভারত’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে ভারত’

এবার ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টার অভিযোগ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবারই ভারতের পরমাণু হানাদারির মোকাবিলায় পুরোদস্তুর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিল ইসলামাবাদ। এবার তাঁর টুইটে ভারতের সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক হতে বললেন ইমরান।

তাঁর ধারণা, কাশ্মীর থেকে গোটা বিশ্বের নজর ঘোরাতেই ভারত ওই পরমাণু যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে।

একের পর এক টুইটে ইমরান লিখেছেন, ‘ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাঁড়ার থেকে অন্য দেশগুলি কতটা নিরাপদ, এ বার গুরুত্ব দিয়ে তা ভাবা উচিত গোটা বিশ্বের। কারণ, এটা এমন একটা বিষয়, যার প্রভাব শুধুই এই অঞ্চলেই নয়, পড়বে গোটা বিশ্বে।’

শনিবারই ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়, ভারতের দিক থেকে যে কোনও পরমাণু হানাদারির জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে পাকিস্তান।

ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ইমরান সরকারের শীর্ষ স্তরের মন্ত্রী, অফিসার ও উচ্চপদস্থ সেনাকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। তার পরেই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ও সেনবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।

সেখানে গফুর বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমাদের সন্দেহটা হালে খুবই জোরালো হয়েছে যে, কাশ্মীর থেকে গোটা বিশ্বের নজর ঘোরাতে বড়সড় পরমাণু হানাদারি চালাতে পারে ভারত। তবে তার জন্য আমরা পুরোদস্তুর তৈরি রয়েছি।’

মেজর জেনারেল গফুর এও জানান, ভারত জোর করেই যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে। সেই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, কাশ্মীর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রলায়ে বিশেষ কাশ্মীর সেল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুরেশি বলেন, ‘কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে গোটা বিশ্বকে ওয়াকিবহাল করতে যে সব দেশে পাক দূতাবাস রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই জনাকয়েক বিশেষ দূত নিয়োগ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেছে পাকিস্তান।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে। ফের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ভারত-পাকিস্তান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা