kalerkantho

মসজিদ বন্ধ করে দিয়ে জুমা আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে কাশ্মীরে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মসজিদ বন্ধ করে দিয়ে জুমা আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে কাশ্মীরে

কাশ্মীরিদের অবাধ চলাচলে বাধা দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী

গতকাল শুক্রবার জম্মু-কাশ্মীরে জুমা নামাজ পড়তে মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাশ্মীরের লোকেরা এমনটাই অভিযোগ করেছেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলে সুরক্ষার অজুহাতের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। 

ভারত গত ১২ দিন ধরে কাশ্মীরে কার্ফূ আরোপ করার পাশাপাশি যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে রেখেছে। বিশেষ স্বায়ত্তশাসনকে কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। 

কাশ্মীরের বৃহত্তম শহর শ্রীনগর। এ শহরের বাসিন্দারা বলেছেন, শুক্রবার সকালে শহরের মসজিদটি বন্ধ দেখা গেছে। মসজিদটির বাইরে সশস্ত্র যান পাহারায়  ছিল। 

শহরের দোকানগুলো বন্ধ ছিল এবং অনেকগুলো রাস্তা লক্ষণীয়ভাবে ফাঁকা ছিল।

শহরের একজন বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, আজ শুক্রবার। তারা আমাদের মসজিদে প্রবেশ করতে এবং নামাজ পড়তে দিচ্ছে না… এটা ধর্মের বিষয় তাই তাদের এ কাজ করা উচিত হয়নি।

নয়াদিল্লি এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন বিলোপ করার কয়েকদিন আগেই কাশ্মীরে টেলিফোন এবং ইন্টারনেট লিঙ্কগুলি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। একইসাথে সেখানে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। 

ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটিতে প্রায় ৭০ লোকের বসবাস। এখানে নিরাপত্তার অজুহাতে যে অচলাবস্থা আরোপ করা হয়েছে তার ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে শুরু থেকেই। 

এই সমালোচনার জবাবে শুক্রবার ভারত সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাশ্মীরের জনগণের চলাচল এবং যোগাযোগের লিঙ্কগুলোর সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার ভারত তার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে। সে সময় দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। এর আগের দিন পাকিস্তানও স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। 

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ সংক্রান্ত নয়াদিল্লির পদক্ষেপের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ ও ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। উভয়পক্ষই বিতর্কিত অঞ্চলটি পুরোপুরি নিজেদের বলে দাবি করেছে। দেশ দুটি এ নিয়ে তিনবার যুদ্ধ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী এবং সশস্ত্র কাশ্মীরি যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র লড়াই  হয়েছে। কাশ্মীরি যোদ্ধারা হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবি করছে। এই সংঘর্ষে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ বেসামরিক লোক। 

সূত্র : প্রেস টিভি 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা