kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

এইচআইভি ভাইরাসের সঙ্গে সেলিব্রেটিদের লড়াই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ২২:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এইচআইভি ভাইরাসের সঙ্গে সেলিব্রেটিদের লড়াই

হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) হলো মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস। এটি লেন্টিভাইরাস গোত্রের এক ধরনের ভাইরাস যার সংক্রমণে মানবদেহে এইডস রোগের সৃষ্টি হয়। মূলত এইডস একটি রোগ নয়, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব জনিত নানা রোগের সমাহার। এ ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ ও কয়েক রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়েন। কিন্তু শরীরে এইচআইভি ভাইরাস নিয়েও এখনো বেঁচে আছেন কয়েকজন। চলুন দেখা নেওয়া যাক তাদের সম্পর্কে।

ইরভিন ‘ম্যাজিক’ জনসন

বাস্কেটবল কিংবদন্তি ম্যাজিক জনসন তার খেলোয়াড়ি জীবনে জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। কিন্তু বাস্তব জীবনে এইডসের কাছে হেরে গেছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি আক্রান্ত হলেন, তা এখনও অজানা। ১৯৯১ সালে মাসে জনসন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি এইচআইভি পজিটিভ থাকায় অবসর গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তার ঘোষণার দিনেই জনসন আশ্বস্ত করেছিলেন, যে তার এইডস রোগ নেই; তার স্ত্রীরও এইচআইভি বা এইডস ছিলো না। তখন জনসন বলেছিলেন, আমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার পরিকল্পনা করছি। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনসন একজন সফল ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন এই ভাইরাস নিয়ে।

গ্রেগ লোগানিস

১৯৮৮ সালে যখন অলিম্পিক খেলোয়াড় গ্রেগ লোগানিস এইচআইভিতে আক্রান্তের খবর শুনেছিলেন, তখন তিনি ভেবেছিলেন এটি একটি মৃত্যুদণ্ড। তিনি বলেন, অলিম্পিক গেমসের আর মাত্র ছয় মাস বাকি ছিলো। আমার ব্যাগগুলো প্যাক করতে যাচ্ছিলাম। পরে ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে মরার অপেক্ষা করছিলাম। বছরের পর বছর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরে তার এইচআইভি স্ট্যাটাস এবং তার যৌন সম্পর্কে নিয়ে কথা বলেন তিনি। এগিয়ে আসেন এরকম পরিস্থিতিতে অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে। তিনি বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকবো। কিন্তু আমি এখন ৫৬ বছরে।

চার্লি শিন

অভিনেতা চার্লি শিন ২০১১ সালে জানতে পারেন তিনি এইচআইভি পজিটিভ। ২০১৫ সালে তিনি প্রকাশ্যে শারীরের অবস্থা জানান। তিনি বলেন, নিজেকে আরো উন্নত করার এবং আরো অনেক মানুষকে সাহায্য করার দায়িত্ব আমার।

ফ্রেডি মার্কারি

একাধারে ব্রিটিশ গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক ছিলেন ফ্রেডি মার্কারি। তার ৪১তম জন্মদিনেই এইডস ধরা পড়ে। তার পরে চার বছর বিষয়টি চেপে রেখেছিলেন। ৪৫ বছর বয়সে যেদিন প্রকাশ করেন, তার পরের দিনই মারা যান।

ভিক্টর লুনা

এইচআইভি প্লাস ম্যাগাজিনকে ভিক্টর লুনা বলেন, আমি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত; এটি প্রকাশ্যে বলেছি। এটি করতে গিয়ে আমি আমার ভিতরে থাকা ভাইরাসটি গ্রহণ করেছি। আমি জানি, এই ছোট জিনিসটি আমাকে আর থামাতে পারছে না। আজ লুনা তার অবস্থা সম্পর্কে খোলামেলাভাবে কথা বলে। সেই সঙ্গে এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে কথা বলে।

হলি জনসন

হলি জনসন ১৯৯১ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত হন। তারপর ১৯৯৬ সাল থেকে থ্যারাপি নিতে শুরু করেন। তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে এটি কাজ করছে। কিন্তু জনসন ৫৯ বছর বয়সেও সুস্থ আছেন। 

জেরি হারমান

১৯৮৫ জেরি হারমান জানতে পারেন তিনি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। তখন তার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। তবে এইডসের সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনো বেঁচে আছেন তিনি। বর্তামনে তার বয়স ৮৮ বছর। তিনি বলেন, এই ধরনের ভাইরাস নিয়ে সাধারণভাবে জীবনযাপন করা যায়।

চক পানোজো

চক পানোজো ২০০১ সালে ঘোষণা দেন যে, তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত। এরপর তিনি চার বছর কোনো ধরনের চিকিৎসা নেননি। পানোজো এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ওষুধে সেবন করে এখনো বেঁচে আছেন।

জিম জে বুল্ক

১৯ বছর বয়সে অভিনেতা বুল্ক জানতে পারেন তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত। তখন তিনি জানতে পারেন আর মাত্র ছয় মাস বাঁচতে পারবেন। কিন্তু আজও তিনি এইডসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। 

ড্যানি পিনতাউরো

২০০৩ সালের দিকে ড্যানি জানতে পারেন এইডস রোগ বহন করে চলছেন তিনি। তখন তিনি মনে করেছিলেন, কখনো তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু তিনি বর্তমানে বিয়ে করে সুখেই জীবনযাপন করছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা