kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

কাশ্মীর ইস্যু

মোদি সরকারের সমালোচনা করে গৃহবন্দি কাশ্মীরের তরুণ রাজনীতিবিদ ফয়জল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোদি সরকারের সমালোচনা করে গৃহবন্দি কাশ্মীরের তরুণ রাজনীতিবিদ ফয়জল

গত ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। বিক্ষোভ এড়াতে ওই দিন রাতেই জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাকে আটক করে মোদি সরকার। পরে গৃহবন্দি করা হয় তাদের। কাশ্মীর ইস্যুতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের আরো বহু রাজনীতিবিদকেই। আর এবার গৃহবন্দির তালিকায় নাম লেখা আরো একজনের। জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ রাজনীতিক এবং সাবেক ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা আইএএস কর্মকর্তা শাহ ফয়জলকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে ইস্তানবুল যাওয়ার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তার পর ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীনগরে। সেখানে জন নিরাপত্তা আইনে গৃহবন্দি করা হয় তাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে ইস্তানবুলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল শাহ ফয়জলের। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে আটক করা হয়। বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। সেখান থেকে শ্রীনগরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত কয়েকদিন আগে কাশ্মীরে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে বিবিসি। এই ঘটনা প্রেক্ষেতি কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি। আর গতকাল মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে তাদেরই সাক্ষাৎকার দেন শাহ ফয়জল। তাতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। দিনের আলোয় সংবিধানকে খুন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। তার পরেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে আইএএস পরীক্ষায় শীর্ষ স্থানাধিকারী শাহ ফয়জল, নরেন্দ্র মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে এ বছর জানুয়ারি মাসে সিভিল সার্ভিস থেকে ইস্তফা দেন। ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের রাজনৈতিক দল ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট’-এরও সূচনা করেন। সেই থেকে একাধিক বার নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি। উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা বিলোপ এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ, দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য করেছেন।  

এর আগে টুইটার হ্যান্ডলে শাহ ফয়জল লেখেন, ঈদের জৌলুস নেই। বেআইনিভাবে মাতৃভূমি আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাতে মর্মাহত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাশ্মীরিরা। ১৯৪৭ থেকে এখনো পর্যন্ত যা যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরৎ না পাওয়া পর্যন্ত ঈদ পালিত হবে না। উৎসব হবে না অপমানের বদলা না নেওয়া পর্যন্ত।

ঈদের পর গতকাল মঙ্গলবার তিনি লেখেন, রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরে দীর্ঘমেয়াদি, অহিংস আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর মূলধারার রাজনীতি শেষ হয়ে গিয়েছে। সংবিধান মেনে রাজনীতিতে বিশ্বাসী মানুষরাও আর নেই। তাই এই মুহূর্তে সরকারের তাবেদার অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়া ছাড়া অন্য উপায় নেই। দু’টির মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা