kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে নেই চীন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে নেই চীন?

চীনের হাত ধরে জাতিসংঘে গিয়ে নালিশ করার কথা বলেছিল পাকিস্তান। একদা ‘বন্ধু’ চীন তাদের সাহায্য করবে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে, এমনই আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু সে আশার গুড়ে যে বালি, তা চীনের অবস্থানই পরিষ্কার করছে। কারণ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জাতিসংঘে যাওয়ার গর্জন করছে পাকিস্তান। তাদের পিছনে নাকি রয়েছে চীনের চালিকা শক্তি। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের দ্বারস্থও হয়েছে তারা।

কিন্তু এই প্রসঙ্গে চীন চুপ। এখনও পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তে সেই অর্থে বিরোধিতা করতে শোনা যায়নি বেইজিংকে। ফলে পাকিস্তানের পাশে চীন কতটা দাঁড়াবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কারণ সরকারি ভাবে এখনও বেইজিং পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কোনও বার্তা দেয়নি। এমনকি ইসলামাবাদের এই দাবির স্বপক্ষেও কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি বেইজিংকে।

চার দিন আগে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জানান, ‘পাকিস্তান সরকার এই বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে যাবে। তবে তার জন্য চীনের সাহায্য প্রয়োজনীয়।’ এই বিষয়ে চীনের কি বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চীন পূর্ণ সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছে।’

এই বিষয়ে সমর্থন চেয়ে পাকিস্তান সরকার, ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডের সাথেও কথা বলার কথা ভেবেছিলেন বলে জানান। এই দুই দেশই জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্য।

চীনের নীরবতাই বার্তা দিয়েছে পাকিস্তানকে, মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক অস্থায়ী সদস্য পোল্যাণ্ডও।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘে পাকিস্তান জানায়, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তারা এখনও চুপ রয়েছে, কিন্তু ভারত যেন সেই চুপ থাকাকে পাকিস্তানের দুর্বলতা না ভাবে। তবে পোল্যাণ্ডের বিবৃতি, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশেরই আলোচনার টেবিলে বসা উচিত।

এদিকে, জাতিসংঘে ইসলামাবাদের চীনকে পাশে পাওয়ার আগেই পালটা চালে বাজিমাত করে দিলো ভারত। কৌশলী চালে ইসলামাবাদের পাশা উলটে দিতে তৈরি হয় নয়াদিল্লি। চীনকে নিজেদের পাশে পেতে বেইজিং যাত্রা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিং পিনের মধ্যে দ্বিতীয় সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে কথা বলতেই মূলত তাঁর এই সফর ছিল।

জয়শঙ্করের সফরসূচি পূর্ব নির্ধারিত হলেও জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা নিয়ে চীনের অবস্থান সুস্পষ্ট করতে এই সফরে তাঁর একাধিক বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ সীমান্তে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে বেইজিংকে আশ্বস্ত করেছে নয়াদিল্লি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা