kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

কাশ্মীরে বিক্ষোভ: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ, ভারতের অস্বীকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীরে বিক্ষোভ: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ, ভারতের অস্বীকার

ভারত শাসিত কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসিত মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে রাজধানী শ্রীনগরে শুক্রবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। ঈদের দিনেও তারা স্বাধীনতার দাবিতে রাজ্যটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ করে। হাজার হাজার মানুষের সেই বিক্ষোভে কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান উঠে। ওই বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও ছররার গুলিও নিক্ষেপ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত একটি  ভিডিওতে গুলির শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়, আর দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের ছোটাছুটি।

বিক্ষোভকারীদের কারো হাতে কালো বা সবুজের ওপরে চাঁদতারা-আঁকা পতাকা, কারো হাতে 'উই ওয়ান্ট  ফ্রিডম' লেখা পোস্টার। মানুষের গলাতেও শোনা যায় স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান। কয়েকজন এ ভিডিওতে বলছেন তারা কাশ্মীরের স্বাধীনতা চান। এদিকে ঈদের পরের দিনও একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারও কয়েকটি ভিডিও প্রচার করা হয়। সেখানে দেখা কাশ্মীরের মানুষজন কাফনের কাপড় পরে স্বাধীনতার দাবিতে শ্লোগান দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায় মিছিলে গুলি চলতে। সেই সঙ্গে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের এদিক ওদিক ছোটাছুটি  করার চিত্র।

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তারা কাশ্মীরের আসল চিত্রে তুলে ধরেছে গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মধ্যে বিবিসি এবং রয়টার্স কাশ্মীরের আসল খবর তুলে ধরেছে। সেখানের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা। তবে ভারতের দাবি, কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে তা আসল নয়। মিথ্যা কথা বলছে গণমাধ্যম। মিত্যা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। 

ভারত সরকারের স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় টুইট করে জানায়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের যে খবর বেরিয়েছে তা ভুল। শ্রীনগর ও বারামুল্লায় কয়েকটি বিক্ষোভ হয়েছে খুব বেশি মানুষ ছিলো না। এতে ২০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন না।

এদিকে ভিডিওটি প্রকাশ করা পর থেকে ভারত সরকার তা অস্বীকার করে আসছে। এনিয়ে বিবিসি জানায়, ভারত সরকার বিক্ষোভের ঘটনাটি অস্বীকার করেছে। এ বিষয় নিয়ে বিসিসি একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলে, কাশ্মীরে যা হচ্ছে আমরা তার ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরছি'- এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা কাশ্মীরের ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার যে কোনো দাবিকে প্রত্যাখ্যান করি। আমরা নিরপেক্ষ ও নির্ভুলভাবে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীর রাজ্যের স্বায়ত্বশাসন দানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর থেকে রাজ্যটি কার্যত অবরুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। মোবাইল, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন। সেজন্য কাশ্মীরে থাকা কোনো সাংবাদিকই খবর পাঠাতে পারছেন না।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, কাশ্মীরের অসুস্থ মানুষজন অ্যাম্বুলেন্সে কল করতে পারছে না। কারণ তাদের ফোনের লাইনগুলো কাজ করেছে না। কারফিউয়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে অসুবিধা হচ্ছে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, বিবিসি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা