kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

নরওয়েতে মসজিদে গুলির ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা, চলছে তদন্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরওয়েতে মসজিদে গুলির ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা, চলছে তদন্ত

নরওয়ের অসলো শহরের প্রান্তে আল-নূর ইসলামিক সেন্টারে শনিবার এক বন্দুকধারী হামলা চালায়। রাজধানীর মসজিদে হামলাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

বন্দুকধারী ব্যক্তিকে মসজিদের এক ব্যক্তি ধরতে সক্ষম হন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে পরে আটক করেছে পুলিশ। সেই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে পুলিশ, হত্যার অভিযোগ এনেছে। কারণ, তার ১৭ বছর বয়সী সৎ বোনকে ভিন্ন আরেকটি জায়গায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সন্দেহভাজন সেই ব্যক্তির নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি নরওয়ের বংশোদ্ভূত একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ২০ বছর। মসজিদটি যে এলাকায় অবস্থিত বন্দুকধারী ব্যক্তি সে এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তারা আগে থেকেই চিনতো, কিন্তু তার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিলো না। বন্দুকধারী ব্যক্তি উগ্র ডানপন্থায় বিশ্বাস করতেন এবং তিনি ছিলেন অভিবাসন বিরোধী।

নরওয়ের সংবাদমাধ্যম বলছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি হামলার আগে একটি অনলাইন ফোরামে তার মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার সাথে সম্পৃক্ত বন্দুকধারীর প্রশংসা করেছেন।

যখন হামলা হয় তখন মসজিদের ভেতরে মাত্র তিনজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা ঈদ-উল-আযহার ছুটির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মসজিদের পরিচালক ইরফান মুশতাক স্থানীয় একটি টিভিকে বলেন, হামলাকারী মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ পোশাক ছিলো। তার হাতে দুটো শটগানের মতো অস্ত্র এবং একটি পিস্তল ছিলো। সেখানে ঢুকেই গুলি চালানো শুরু করে বন্দুকধারী। এক পর্যায়ে ৬৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক নামে এক মুসল্লি বন্দুকধারীকে ধরে ফেলেন। এ সময় তিনিও সামান্য আহত হন।

মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে বাইরে থেকে গুলির শব্দ শুনলাম। বন্দুকধারী অন্য দুজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করছিল। তিনি জানান, তিনি বন্দুকধারীকে জাপটে ধরেন এবং তাকে মেঝেতে ফেলে দেন। তারপর ধস্তাধস্তি করে তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেন।

মসজিদে এই হামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নরওয়ের মুসলিম জনসংখ্যাকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট কাজ করা হচ্ছে কিনা। মসজিদের পরিচালক মোহাম্মদ মুশতাক বলেন, সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। বহু বছর ধরে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে যে মুসলমানরা এ সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কিন্তু আপনি যদি সর্বশেষ দুটো বড় ঘটনার দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন সেখানে মুসলমানরা দায়ী নয়।

নরওয়ের ইসলামিক কাউন্সিল বলেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ নরওয়েতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, এই হামলা সেটির ফলাফল।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ টুইটারে লিখেছেন, নরওয়েতে যে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব এবং ঘৃণা রয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

অন্য আরেক বিবৃতিতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটি মোকাবেলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি, এটা এক অর্থে বিশ্বজুড়ে একটা চ্যালেঞ্জ।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা