kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

কসাই ডেকে স্ত্রীকে হত্যা, সিসিটিভিতে দেখা গেল মাথাকাটা কাণ্ডের তিন অভিযুক্তকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কসাই ডেকে স্ত্রীকে হত্যা, সিসিটিভিতে দেখা গেল মাথাকাটা কাণ্ডের তিন অভিযুক্তকে

ভারতের হাওড়ার বালির জেটিয়া ঘাটে গৃহবধূ হত্যার দু'দিনের মধ্যেই কিনারা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, বাড়িতে কসাই ডেকে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন উপেন্দ্র রজক। 

তারপর স্ত্রীর মাথা, দেহের ঊর্ধ্বাংশ, নিম্নাংশ সব আলাদা করে ফেলে দেয়া হয় গঙ্গায়। আর সবটাই করা হয় গণেশ চ্যাটার্জি লেনে খুনির বাড়িতে। 

পুলিশের বলছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড। হাওড়া পুলিশের ডিসি (নর্থ) অমিত কুমার রাঠোর সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকারীদের ভরসা ছিল জোয়ারের পানিতে। কিন্তু অবশেষে ভাঁটার টানই ধরিয়ে দিল যে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড। আর সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে দেয় খুনিদের। 

এরপরই শনিবার মৃতার স্বামী উপেন্দ্র রজক ও তার সঙ্গী সেই কসাই দিলবর খান ও সাকলিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করেন তিনজনই।

জানা গেছে, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ অনেকদিন ধরেই ছিল উপেন্দ্রর। সে কারণে অশান্তি, ঝগড়া লেগেই থাকত। স্ত্রীকে হত্যার ছক কষেন অভিযুক্ত। পরিকল্পনামাফিক বুধবার রাতে স্ত্রীকে হত্যা করে বৃহস্পতিবার ভোরে তার কাটা দেহ স্বামী ও তার দুই সাগরেদ মিলে ফেলে আসেন গঙ্গায়। 

তারপর থেকে বাড়ি ফিরে চলে স্ত্রীকে খোঁজার পালা। পুলিশের কাছে নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়। তার পর পাড়ায় মা আরতি রজকের সঙ্গে বেরিয়ে উপেন্দ্র বলে স্ত্রী ভোর থেকে নিখোঁজ। এতেই সন্দেহ হয় পুলিশের।

উপেন্দ্রর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে প্রথমেই সিসিটিভি দেখে পুলিশ। সিসিটিভি দেখার কারণ মূলত দু’টি। প্রথমত, উপেন্দ্রর অভিযোগ যদি সত্যি হয়, সে অনুযায়ী তার স্ত্রী মৃতা সোনির গতিবিধির হদিশ পাওয়া যেত। সোনি যদি না পালিয়ে থাকে, তবে অন্য ঘটনা ঘটলে তার সূত্রও মিলতে পারে। 

সে ক্ষেত্রে উপেন্দ্র বা তার বাড়ির লোকের অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। ঠিক সেই ঘটনাই ঘটল। জানা গেল, স্ত্রীকে কসাই ডেকে এনে হত্যার কথা। জেটিয়া ঘাটের কাছে বৃহস্পতিবার ভোরে তিনজনকে একটি রিকশায় করে যেতে দেখা যায়। রিকশায় উপেন্দ্র, দিলবরের সঙ্গে ছিল সাকলিন শেখ নামে আরেকজন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করে পুলিশ।

জেটিয়া ঘাট থেকে বৃহস্পতিবার সকালে সোনির দেহাংশ মেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উপেন্দ্র জানায়, তারা জোয়ারের ভরসা করে দেহ গঙ্গায় ফেলে আসে। দিনের আলো ফুটে যাওয়ায় তারা দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। 

বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভাটা ছিল। উপেন্দ্ররা তার আগেই দেহ ফেলে চলে আসে। সেখানে ছিল সোনির কাটা মাথা, একটি কালো কিট ব্যাগ ও আরেকটি কাপড়ের ব্যাগ। কিট ব্যাগে ছিল সোনির শরীরের ঊর্ধ্বাংশ, অন্য ব্যাগটিতে ছিল কসাইয়ের একাধিক অস্ত্র। তাতে তিনটি চপার, দু’টি ভিন্ন মাপের ছুরি। দেহের অন্য অংশের মধ্যে হাত ও পায়ের টুকরো পাওয়া যায়নি। খুনের পর ঘর ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।

জানা গেছে, ঘটনা পুনঃনির্মাণ করা হবে হত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে। তবে প্রাথমিকভাবে তারা জানিয়েছেন, দেহ একেবারে লোপাট করে দেয়ার জন্য কসাই ডেকে শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিন্ন করে তবেই তা গঙ্গায় ফেলার উদ্দেশ্য ছিল তাদের। কিন্তু তাতে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা