kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

নিজের ঘরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, বিচার না পেয়ে কোর্টের দরজায় বিষপান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের ঘরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, বিচার না পেয়ে কোর্টের দরজায় বিষপান

স্বামীর বড় দুই ভাই আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে এক গৃহবধূকে। ওই সময় নিজের শ্বশুরের সেবা করেছিলেন ওই নারী।  অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েও ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে হুমকি দিতে থাকে। 

নিরুপায় হয়ে কঠিন প্রতিবাদ জানানো এবং সেই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কলকাতা হাইকোর্টের ‘সি’ গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিষ পান করেন এক নারী।

পুলিশ বলছে, ওই ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ওই নারী বেঁচে গেছেন। কিন্তু বাড়ি ফিরলে অভিযুক্তরা তাকে ছাড়বে কিনা, সেই আতঙ্ক ভর করেছে তার ওপর। ওই নারীর পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোন করে খবর দেয়া হয় রামনগরের বাড়িতে। যোগাযোগ করা হয়েছে রামনগর থানার সঙ্গেও।

চিকিৎসাধীন ওই নারী পুলিশকে জানান, রামনগর থানা এলাকায় তার বাড়ি। ১৬ বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তার দুই মেয়ে আছে। তার অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যুর পর বাড়ি ও সম্পত্তির লোভে জানুয়ারিতে তাকে গণধর্ষণ করে ভাশুরসহ কয়েক জন। 

তিনি বলেন, শ্বশুর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার সেবা করছিলাম। দুই ভাশুর ও জায়ের সন্দেহ হয়, সেবা পেয়ে শ্বশুর সব সম্পত্তি আমাদের লিখে দেবেন। শুরু হয় মানসিক অত্যাচার।

তার অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেলে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে সম্পত্তি লিখে নেয় দুই ভাশুর। থানায় অভিযোগ করায় অত্যাচার বেড়ে যায়। স্বামী গুজরাটে কাজ করতে গেলে তাকে একা পেয়ে ভাশুরেরা কয়েকজন লোক এনে তাকে ধর্ষণ করে। তার যৌনাঙ্গে পাথরের কুচি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। 

রামনগর থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করেনি। উল্টআ আটক দু’জন জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় এবং বাড়ি ফিরে তাকে মারধর করে, হত্যার হুমকি দিতে থাকে। 

গত শুক্রবার হাসপাতালে শুয়ে ওই নারী অভিযোগ করেন, আবারো রামনগর থানায় গেলে পুলিশ প্রশ্ন তোলে, বারবার আমার সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটছে কেন? আমিই কেন গণধর্ষণের শিকার হলাম?

এক আইনজীবীকে ধরে হাইকোর্টে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার মামলা দায়ের করেন ওই নারী। লালবাজার জানায়, গত মাসে সেই মামলা খারিজ হয়ে গেছে। 

হতাশায় ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন নির্যাতিত ওই নারী। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার পাইনি। আবার মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আইনজীবী আরো টাকা চান। কোথায় পাব টাকা? মরা ছাড়া আমার আর উপায় ছিল না। আইনজীবীর সঙ্গে আরেকবার কথা বলতে হাইকোর্টে যাই। ফলিডল সঙ্গেই রেখেছিলাম।

কৌঁসুলি টাকা চাওয়ায় কোর্টের গেটে ফিরে বিষ পান করেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হলে তার বয়ান রেকর্ড করে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওই নারীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার সেলভা মুরুগান। তিনি বলেন, গণধর্ষণের শিকার কেন হয়েছেন, থানা থেকে এ ধরনের কথা তাকে বলা হয়নি। পুরোটাই পরিবারিক গোলমাল। তার অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসপি জানান, ওই নারী ১০-১২টা অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধেও বেশ কিছু অভিযোগ আছে। সব কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা