kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমাজনের জঙ্গল কেটে তেলের খনি নয়, রায় দিল আদালত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমাজনের জঙ্গল কেটে তেলের খনি নয়, রায় দিল আদালত

আমাজনের জঙ্গল আরো কেটে ফেলে তেলের খনি তৈরির তোড়জোড় চলছে। কিন্তু অরণ্যজীবীদের সমবেত প্রতিবাদের কাছে পুঁজিবাদী সেই পরিকল্পনা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আমাজনের জঙ্গলবাসী আটকে দিল তেলের খনি তৈরি এবং তেল উত্তোলনের কাজ।

জানা গেছে, দক্ষিণ অ্যামেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আমাজনের জঙ্গল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ অরণ্য এবং সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য সম্পন্ন জঙ্গল। তিন-চারটি দেশ সেই অরণ্যের আওতায়।

কিন্তু নগরায়নের কোপ পড়েছে সেখানেও। চোরাকারবারি তো বটেই, পুঁজিপতিদের নজরও এখন আমাজনের জঙ্গলের বৃহৎ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর। সে কারণে জঙ্গল কেটে মাটি খুঁড়ে তেলের সন্ধানে অর্থ বিনিয়োগ করতে তৎপর তারা।

ইকুয়েডরের যে অংশ আমাজনের মধ্যে পড়েছে, সেখানে অন্তত ১৬টি তেল ব্লক রয়েছে। ওই অঞ্চলে প্রচুর অরণ্যজীবীর বসবাস। তেলের খনি হলে, নিজেদের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হবে, তা বুঝতে পেরেই সাহস করে আইনের লড়াইয়ে নেমেছিলেন তারা।

আদালতে শুনানি শুরু হতেই অভিযোগ ওঠে, ইকুয়েডর সরকার মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কর্পোরেট জগতের কাছে নিজেদের পরিবেশ বিকিয়ে দিয়েছে। সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহল আলোচনায় বসে সহমত হলে সেটা করা যায়।

কিন্তু তেল উত্তোলনের সময় এরকম কোনো আলোচনা হয়নি। আদালতে অরণ্যবাসীরা জানিয়েছেন, সরকার আমাদের জমি, পরিবেশ সব আমাদের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কিছুতেই নিজেদের জায়গা তেলের খনি সংস্থার কাছে বিক্রি করব না। অরণ্য আমাদের সম্পদ, আমাদের ঈশ্বরের মতো। যে কোনো মূল্যে আমরা একে বাঁচাব।

আদালত অরণ্যবাসীদের পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আমাজনের জঙ্গল কেটে, পরিবেশ নষ্ট করে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ তোলা যাবে না। আর এই রায় শুনে রীতি মতো উচ্ছ্বাসে মেতেছেন আমাজনের আদিম জনজাতি। পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু অর্থ আর ক্ষমতার বলেই যে পৃথিবীর সব হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় না, এই রায় সেটাই বুঝিয়ে দিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা