kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যা, অভিযুক্তকে সৌদি থেকে ধরে আনলেন কেরালার নারী আইপিএস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যা, অভিযুক্তকে সৌদি থেকে ধরে আনলেন কেরালার নারী আইপিএস

সৌদি আরবের রিয়াদে পৌঁছানোর আগেই মনে মনে সংকল্প করেছিলেন ভারতের কেরালার এই দুঁদে আইপিএস কর্মকর্তা। যে করেই হোক অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যাবেনই তিনি। 

মাসের পর মাস ১৩ বছরের কিশোরীকে যৌন নির্যাতন চালিনোর অভিযোগ যার বিরুদ্ধে রয়েছে, তাকে ছাড়া যাবে না কোনো ভাবেই। তখনো অবশ্য জানতেন না রিয়াদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু, অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়ে আছে সেখানেই। অতএব, তাকে ধরতে হবে যে কোনো উপায়ে।

অবশেষে পরিকল্পনা সফল। কিশোরী ধর্ষণে অভিযুক্ত সুনীল কুমার ভদ্রনকে (৩৮) গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ধরে নিয়ে গেছেন কেরালার আইপিএস কর্মকর্তা মেরিন জোসেফ। এখনো তদন্ত চলছে।

২০১৭ সালের ঘটনা। কেরালার সরকারি নারী মন্দিরম হোমের এক নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ জানায়, নিজের পাড়ারই এক চাচার যৌন লালসার শিকার হয়েছিল সেই মেয়েটি। শরীরে দগদগে ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলেছিল হাসপাতালে। সেখান থেকে বের হওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল কিশোরী। বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি তার। পুলিশই তাকে ভর্তি করে দেয় কোল্লামের ওই সরকারি হোমে। মাস কয়েকের মধ্যে সেখানেই আত্মহত্যা করে সে।

কিশোরীর পরিবার মুখে কুলুপ আঁটলেও এগিয়ে আসেন নির্যাতিতার এক আত্মীয়। তিনিই অভিযোগ করেন সুনীল কুমারের নামে। জানা যায়, সুনীলের বাড়ি ওই নাবালিকার বাড়ির কাছেই। মেয়েটির এক চাচার বন্ধু সুনীল। কর্মসূত্রে থাকেন রিয়াদে। ওই বছর সে কেরালায় নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন। চকোলেটের লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন কিশোরীর ওপর। লাগাতার তিন মাস ধরে চলে এই নির্যাতন। হুমকি দিয়ে মেয়েটির মুখ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। পরে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে জানা যায়, সুনীল ফিরে গেছেন রিয়াদেই।

তদন্ত শুরু হয়। তার মাঝেই আত্মহত্যা করেন কিশোরীর সেই আত্মীয়ও। লুকআউট নোটিস জারি হয় সুনীলের নামে। তদন্তের দায়িত্ব তুলে নেন কেরালার নারী আইপিএস মেরিন জোসেফ। চলতি বছরেরই জুনে কোল্লাম কমিশনারের পদে বহাল হয়েছেন তিনি।

মেরিন জানান, প্রথম যখন কিশোরীর কথা শোনেন তিনি, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বজ্র কঠিন মন হলেও, নির্যাতিতার যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে পীড়া দিত তাকে। তখনই অপরাধীকে খুঁজে বের করার প্রতিজ্ঞা নেন। তৈরি করেন বিশেষ তদন্তকারী দল। সিবিআই-এর সাহায্য নিয়ে সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ সাজিয়ে নেন। তার পর সৌদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়।
 
মেরিন বলেন, লাগাতার দু’বছর ধরে অপরাধীকে খুঁজছিলাম আমরা। আমার গোটা টিম ও সিবিআই কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন এই তদন্তের কাজে। কেরালা পুলিশের আন্তর্জাতিক তদন্তকারী শাখা সৌদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পরই আমরা একটা পরিকল্পনা বানাই। গোটা দল নিয়ে পৌঁছাই রিয়াদে। সৌদি পুলিশের সাহায্যে খুঁজে বের করা হয় অভিযুক্ত সুনীল কুমারকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা