kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

২ পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যার পর মনিবের আত্মহত্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৪:২৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২ পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যার পর মনিবের আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

দেনার দায়ে মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন এক ব্যক্তি। আর সেই অবসাদ থেকে প্রথমে নিজের পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যা করলেন তিনি। তারপর নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন।  চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। 

সেদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় জয়নগর থানার নারায়ণীতলার চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দাদের। ঘুম চোখে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। খোঁজ নিয়ে জানেন, ওই পাড়ার বাসিন্দা শুভঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়ি থেকে ওই আওয়াজ পাওয়া গেছে। সঙ্গে সঙ্গেই শুভঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয়রা।

বাড়ির মধ্যে ঢুকে তাঁরা দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন শুভঙ্কর রায়চৌধুরী এবং তাঁর দুই পোষা কুকুর। মৃতদেহের পাশেই পড়ে রয়েছে একটি দোনলা বন্দুক। ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। 

শুভঙ্কর রায়চৌধুরীর স্ত্রী জানান, তিনি ওপরের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে গুলির শব্দ পেয়ে নীচে নেমে আসেন। নীচে নেমে দেখতে পান, স্বামী শুভঙ্কর রায়চৌধুরী ও দুই পোষা কুকুর মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছটফট করছে। দুই পোষা কুকুরকে মেরে শুভঙ্কর রায়চৌধুরী নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জয়নগর থানার পুলিশ। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, শুভঙ্কর রায়চৌধুরী পেশায় অটোচালক। তাঁর বাবার নামে লাইসেন্স করা ওই বন্দুকটি দীর্ঘদিন  ধরেই তাঁদের বাড়িতে আছে। দেনার দায়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শুভঙ্কর। তার ওপর সময়মতো কিস্তির টাকা না দেওয়ায় বুধবার তাঁর অটোটি বাজেয়াপ্ত করে নেয় ঋণপ্রদানকারী অর্থলগ্নি সংস্থাটি। এর ফলে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন শুভঙ্কর। মা, বোন, স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে সংসারে তিনি-ই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। একদিকে দেনা, অন্যদিকে অটোটিও হাতছাড়া হওয়ায় একদম মুষড়ে পড়েন তিনি। আর সেটাই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বন্দুকটির লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সূত্র : জি-নিউজ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা