kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

'ট্রাম্পের মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন, আসলে মেক অ্যামেরিকা হোয়াইট এগেইন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ১৭:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ট্রাম্পের মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন, আসলে মেক অ্যামেরিকা হোয়াইট এগেইন'

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সমালোচনা করেছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির চারজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী জনপ্রতিনিধি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের উপদেশ দিলেন, আপনারা যে দেশ থেকে এসেছেন, সে দেশে ফিরে যান। 

এক টুইট বার্তায় সেটি জানানোর পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ডেমোক্রেটিকরা। এমনকি ওই চারজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী যার বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন, সেই পেলোসিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্প বর্ণবিদ্বেষী। তিনি যে ‘নতুন অ্যামেরিকা’ গড়তে চান, সেখানে শ্বেতাঙ্গ বাদে আর কারো জায়গা নেই।

গত রবিবার সকালে ভার্জিনিয়ার স্টারলিং-এ গলফ খেলতে যাওয়ার আগে ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গ ওই জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কয়েকটি টুইট করেন। তাতে লেখেন, চার ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস নারী এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তারা জঘন্য, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিশ্বের যে কোনো সরকারের চেয়ে অপদার্থ। সত্য বলতে কি, ওই সব দেশে আদৌ সরকার আছে কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ হচ্ছে।

ট্রাম্প আরো লিখেছেন, সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সেই সব দেশ থেকে চারজন নারী এসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রকে উপদেশ দিচ্ছেন, সরকার কীভাবে চালানো উচিত।

এ ঘটনার জেরে পেলোসি ট্রাম্পের নিন্দা করে বলেছেন, ট্রাম্প দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চান। চার কৃষ্ণাঙ্গ কংগ্রেস সদস্য বলেছেন, আমরা প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।

যে চারজন নারী জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছেন, তারা হলেন ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত আয়ানা প্রেসলি, মিশিগানের রশিদা তলাইব, নিউইয়র্কের আলেকসান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ এবং মিনেসোটার ইলহান ওমর। তারা সবাই ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চার নারী বিদেশ থেকে এসেছেন। কিন্তু তথ্য বলছে অন্যরকম। প্রেসলির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিন্নাটিতে। তলাইবের জন্মস্থান ডেট্রয়েট। কর্তেজের জন্ম নিউইয়র্কে। ট্রাম্পের বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে। 

একমাত্র ওমরের জন্ম সোমালিয়ার মোগাদিশুতে। সে দেশে গৃহযুদ্ধের সময় তাদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসে। কৈশোরে ওমর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

পেলোসি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ট্রাম্প যখন বলেন, মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন, তিনি বোঝাতে চান ‘মেক অ্যামেরিকা হোয়াইট এগেইন’। ট্রাম্প বর্ণবিদ্বেষের রাজনীতি করেন। তিনি অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করছেন। তাদের পরিবারগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার মতো লোক যে আমাদের বিরুদ্ধে ওই ধরনের মন্তব্য করবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা