kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

পুলিশি হেফাজতে দলিত নারীকে গণধর্ষণ, দেবরকে হত্যা; ৭ পুলিশ বরখাস্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ১৪:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশি হেফাজতে দলিত নারীকে গণধর্ষণ, দেবরকে হত্যা; ৭ পুলিশ বরখাস্ত

প্রতীকী ছবি

ভারতে এক দলিত নারীকে গণধর্ষণ ও তাঁর দেবরকে পুলিশি হেফাজতে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৬ পুলিশকর্মী ও এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের চুরুতে। 

পুলিশ বলছে, গত ৬ জুলাই সকালে নেমিচাঁদ নামে এক যুবককে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিন রাতেই পুলিশি হেফাজতে মারা যান তিনি। তবে ওই যুবকের বৌদি জানান, চুরুর সরদারশহর থানার দায়িত্বে থাকা এক অফিসার (এসএইচও) ও অন্য পুলিশকর্মীরা তাঁকে ও তাঁর দেবরকে চুরির অভিযোগে তুলে নিয়ে গিয়ে বেআইনিভাবে আটকে রাখে। গণধর্ষণ করেছে তাঁকে এবং দেওরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। 

ওই নারী এখন জয়পুরের হাসপাতালে রয়েছেন। 

ওই নারীর স্বামী ওবং নেমিচাঁদের ভাই বলছেন, চুরির অভিযোগে ৩০ জুন আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে পুলিশ। ৩ জুলাই ভাইকে নিয়ে তারা আমার বাড়ি আসে এবং সেদিনই আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথেই ভাই আমার স্ত্রীকে জানান, তার ওপর অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ। ৬  জুলাই আমার ভাইকে মেরে ফেলে পুলিশ। 


ওই ব্যক্তির অভিযোগ, পুরো ঘটনা নিজের চোখের সামনে দেখেন তাঁর স্ত্রী। তাঁকেও পরে গণধর্ষণ করে পুলিশকর্মীরা। তাঁর নখ উপড়ে নেওয়া হয়। মারের চোটে চোখ ও আঙুল জখম হয়। নেমিচাঁদ মারা যাওয়ার পরেও ১০ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখা হয় তরুণীকে। 

তিনি অভিযোগ করেছেন, ৭ জুলাই নেমিচাঁদের শেষকৃত্য সেরে ফেলার জন্য চাপ দেয় পুলিশ কর্মকর্তারা। 

এদিকে, নেমিচাঁদের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পরে এসএইচও রণবীর সিংহ এবং ছয় পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। চুরুর পুলিশ সুপার রাজেন্দ্র কুমারকেও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরদারশহরের সার্কেল অফিসারকেও শুক্রবার রাতে বরখাস্ত করা হয়। তারপরেই আক্রান্ত নারীর সই-সহ লিখিত অভিযোগ ডিজিপি ভুপেন্দ্র সিংহের কাছে পাঠানো হয়। 

শনিবার ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। 

নতুন এসএইচও মহেন্দ্র দত্ত শর্মা জানান, ওই নারীর বিবৃতি অনুযায়ী, ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শনিবার এফআইআর দায়ের হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি এবং সিবিআই। 

নেমিচাঁদের আর আরেক ভাই বলেছেন, ৬ জুলাই পুলিশ আমার ভাইকে নিয়ে গ্রামে এসেছিল। তখনই বলেছিল, শেষবারের জন্য পরিবারকে দেখে নিতে। সেদিন আমার বৌদিকেও তুলে নিয়ে যায়। আটদিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পরে, ১০ জুলাই যখন বৌদি ফেরেন, তখন তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ।

তবে নেমিচাঁদের পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের দাবি মিলছে না। 

পুলিশের দাবি, ৩ জুলাই তাদের কাছে খবর আসে স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতে 'চোর' ধরা পড়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে তুলে নিয়ে আসে পুলিশবাহিনী। পুলিশের নথিতে নেমিচাঁদের নামে আগেও ছিল। সেদিন রাতেই তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়। এরপরে ৬ জুলাই পুলিশ গ্রামে গিয়ে গ্রেপ্তার করে নেমিচাঁদকে। সেদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। 

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তে জানা গেছে, হৃদ‌্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের।

এদিকে, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন দলিত অধিকারকর্মীরা।

সূত্র : আনন্দবাজার 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা