kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

লেবাননের রাস্তায় বাংলাদেশি নারী-পুরুষদের মাতলামি

মেহেদী হাসান    

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেবাননের রাস্তায় বাংলাদেশি নারী-পুরুষদের মাতলামি

বৈরুতে কিছু বাংলাদেশির নাইট ক্লাব পরিচালনা এবং মাতলামি, খুনাখুনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হচ্ছে লেবানন কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় দূতাবাস সেখানে সক্রিয় থাকলেও কিছু বাংলাদেশির কারণে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস একটি জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার লেবানন সময় রাত ১০টার দিকে কয়েকজন বাংলাদেশি দূতাবাসকে ফোন করে জানায় যে বৈরুতের জাল আল দিব এলাকায় বাংলাদেশিদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। এর পরপরই বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশিদের ধরপাকড় না করার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতে কোনো বাংলাদেশি সেখানে গ্রেপ্তার হয়নি।

জানা গেছে, পরদিন শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদল স্থানীয় মেয়র ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে সেখানে  তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে। তারা জানায়, বৈরুতের জাল আল দিব এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায়ই মদ্যপানের পর রাস্তায় নেমে মাতলামি করে। এতে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও কয়েকজন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ রাস্তায় মাতলামি করছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই এলাকার মেয়র সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশিরা শুধু মাতলামিই নয়, বিভিন্ন অনৈতিক কাজও করছে। এমনকি বাংলাদেশিরা সেখানে নাইট ক্লাব পরিচালনা করছে। এ কারণে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, লেবাননের বেশ কিছু এলাকা যেমন দাওরা, আয়না আল রোমানি, বুর্জ আল বারানিয়ে, বুর্জ হাম্মুদ, লাইলাকি ও জুনিতেও বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নাইট ক্লাব খোলা এবং জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ মিলেছে। সেসব এলাকায় বাংলাদেশিদের মাতলামি, মাদক ব্যবসা, মারামারি ও খুনোখুনি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিরীহ ও শান্তিকামী প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করেছে। দূতাবাস বলেছে, অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে লেবানন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে তার দায় বাংলাদেশ দূতাবাস নেবে না।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, লেবানন কর্তৃপক্ষ অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। লেবাননে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে যাদের বৈধ অবস্থানসংক্রান্ত কাগজপত্র পায়নি, তাদের কাগজপত্র হালনাগাদ করে নিতে বলেছে। তিনি বলেন, গত ২৯ জুন বাংলাদেশ দূতাবাস লেবানন সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ অবৈধ কর্মীদের বৈধ করে নিচ্ছে। তাই এখন যেন অবৈধ কর্মীদের ধরপাকড় করা না হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, লেবাননে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। দেশটির বাজেটে ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ কারণে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে বড় সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে যে কর্মীরা আছে, তারা যদি দেশটির আইন-কানুন মেনে না চলে তবে বিপদে পড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা