kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

আসামে ১৯৪৩ সালে জন্ম, ভারতের নাগরিক তালিকায় তিনিও বিদেশি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুলাই, ২০১৯ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামে ১৯৪৩ সালে জন্ম, ভারতের নাগরিক তালিকায় তিনিও বিদেশি

১৯৪৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামের শিলচর টাউনে জন্মগ্রহণ করেন সুনির্মল বাগচি। শহরের মিউনিসিপ্যাল রেজিস্ট্রারে সে রকমই লেখা আছে। অথচ আসামের জাতীয় নাগরিক তালিকায় তাকেও বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সরকারের নিয়ম অনুসারে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে যারা আসামে গেছেন, তাদের বিদেশি হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু যিনি ১৯৪৩ সালে আসামে জন্মগ্রহণ করেছেন তাকে কীভাবে বিদেশি বলা হচ্ছে? এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা মহলে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে যে জাতীয় নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে সুনির্মল বাগচির নাম দেখা যায়। তালিকায় নাম তোলার জন্য তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ আবেদন করেছিলেন। নাম উঠেছিল দুই কোটি ৮৯ লাখের মতো।

চলতি বছরের ২৬ জুন জাতীয় নাগরিক তালিকা থেকে এক লাখ দুই হাজার মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। সুনির্মল বাবুর নাম তখনই বাদ পড়ে। ১ জুলাই স্থানীয় এনআরসি অফিস থেকে তাকে নোটিস দিয়ে জানানো হয়, কেন তার নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ গেছে।

সুনির্মল বাবুদের বাড়ির কাছে পঞ্চায়েত ভবনে এনআরসির অস্থায়ী কার্যালয় হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার চার দিন পর তিনি সেই অফিসে শুনানির জন্য যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে বলেন, আপনার কাগজপত্র ঠিকই আছে। নাগরিক তালিকায় আপডেট করার সময় আপনার বিষয়টি আমাদের লোকাল ইনচার্জের কাছে তুলব।

শিলচরে এনআরসির কর্মকর্তা আনিস রসুল মজুমদার বলেন, আমাদের অফিসের কেউ ভুল করে সুনির্মল বাবুর নাম নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। সুনির্মলবাবু বলেন, কর্মকর্তারা তো একে অন্যের ওপরে দোষ চাপিয়ে খালাস। কিন্তু বিদেশি বলে নোটিস পাওয়ার পর আমার যা হয়রানি হয়েছে, কেউ কি তার ক্ষতিপূরণ দেবে?

৭৬ বছরের সুনির্মল বাবু জানান, তিনি পেশায় ছিলেন ঠিকাদার। তার দুই ছেলে সম্রাট ও শুভরাজকে ভারতীয় নাগরিক বলা হচ্ছে। তাহলে তিনি বিদেশি হন কী করে?

এনআরসি অফিসের নোটিস পাওয়ার পর সুনির্মল বাবু ও তার দুই ছেলে কাছাড়ের পুলিশ সুপারের অফিসে যান। তারা জানতে পারেন, পুলিশের যে দপ্তরকে সম্ভাব্য বিদেশিদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা সুনির্মল বাবুর নামে কোনো রিপোর্ট দেয়নি। নির্বাচন অফিস থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের নামের পাশে ‘ডি’ লিখে দেয়া হয়। তার মানে ডাউটফুল ভোটার। সুনির্মল বাবুর নামের পাশে ডি লেখা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা