kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

আত্রাই নদীর নাব্যতা হ্রাসে বাংলাদেশকে দায়ী করলেন মমতা

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি    

৯ জুলাই, ২০১৯ ২০:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আত্রাই নদীর নাব্যতা হ্রাসে বাংলাদেশকে দায়ী করলেন মমতা

দিন কয়েক আগেই বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানিবন্টন চুক্তি করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর আজ মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি আত্রাই নদী শুকিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করলেন বাংলাদেশকে।

মমতা বলেন, বাংলাদেশ তাদের দিকে আত্রাই নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছে। আত্রাই সে কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে এপার বাংলায়।
 
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে, সীমান্তের ওপারে আত্রাই নদীতে বাঁধ দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র এক হাজার দু'শ মিটার দূরে মোহনপুর এলাকায় ওই বাঁধের কারণে দক্ষিণ দিনাজপুরের সমজিয়া থেকে ফতেপুর, দীর্ঘ প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আত্রাই নদীর নাব্যতা একেবারেই কমে গেছে।
 
মমতার দাবি, আমি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ নিয়ে কথা বলেছি, চিঠি লিখেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
 
যদিও আত্রাই নিয়ে আজ মমতা মুখ খোলেন, তিস্তার পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায় অধিকার বারবার অস্বীকার করেছেন তিনি। কার্যত তার কারণেই আটকে আছে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি। গত সপ্তাহে তিনি আবার বলেন, তিস্তা থেকে পানি দেয়ার পরিস্থিতি নেই। 

পশ্চিমবঙ্গের সরকারের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া ছাড়াও কৃষি-নির্ভর এই জেলার অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে পানি না থাকায় সেচ দপ্তরের দুই শতাধিক রিভার লিভার মেশিন বন্ধ হওয়ার মুখে। আত্রাই নদীর গতিমুখ বরাবর কংক্রিটের বাঁধ দেয়ার ঘটনায় প্রায় বছর খানেক ধরে পরিবেশপ্রেমীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
  
সূত্র জানায়, আত্রাই নদী দক্ষিণ দিনাজপুরের অন্যতম প্রধান পানি। নদীর দুই পারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শতাব্দী প্রাচীন কুমারগঞ্জ পতিরাম চকভৃগু ও বালুরঘাটের মতো জনবসতি গড়ে উঠেছে। বছর পাঁচেক আগেও, বিশেষ করে খরা মওসুমে জেলার অন্যান্য নদীগুলো শুকিয়ে গেলেও আত্রেয়ী কিন্তু জলপূর্ণ থাকত। সম্প্রতি এই নদীর পানি কমে গেছে।
 
তিস্তার মতো আত্রাই নদীর ব্যাপারেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দাবি তুলেছেন জেলার মানুষ। তবে সেই আলোচনার সাথে, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের দাবি মানা অনেক জরুরী বলে মনে করেন একজন নদী বিশেষজ্ঞ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা