kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

সামরিক বিমানে গুলি না করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে ইরান: ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জুন, ২০১৯ ২২:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামরিক বিমানে গুলি না করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে ইরান: ট্রাম্প

গত কয়েকদিন আগে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মার্কিন একটি সামরিক ড্রোন। আকাশসীমা লঙ্ঘন করতেই তা ধ্বংস করে দেয় ইরানি সেনা। যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে।

ড্রোনের সঙ্গেই ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মার্কিন একটি সামরিক বিমান। যে বিমানে ৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে দাবি করেছে ইরান। ড্রোনটিকে গুলি করে উড়িয়ে দিলেও মার্কিন ওই সামরিক বিমানে কোনও আঘাত করেনি ইরানি সেনাবাহিনী। ফলে প্রাণে রক্ষা পান সামরিক বিমানে থাকা ৩৮ জন যাত্রী। আর সেজন্যে ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টা আগেই ইরানের তরফে ওই মার্কিন সামরিক বিমানটিকে গুলি করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। ইরানের এহেন বক্তব্যের পরেই বিষয়টি মেনে নিলেন মার্কিন প্রেসিডনেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩৮ আরোহীবাহী একটি বিমান সেখানে ছিল, সেটি কি আপনারা দেখেছেন? আমার মনে হয় এটি একটি বড় ঘটনা। তারা তাদের দৃষ্টিসীমায় এটি দেখেও তাতে গুলি করেনি। আমি মনে করি তারা এটা না করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তারা এটা না করায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করছি এটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কাজ।’
 
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গত বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মার্কিন সেনার ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের একটি ড্রোন। আকাশসীমা লঙ্ঘন করতেই অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করে ইরান সেনাবাহিনী। যদিও আমেরিকা দাবি করে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। 
আইআরজিসি’র পরে ধ্বংস ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সামনে এনে প্রমাণ করে দেয় যে এটি ইরানের জলসীমায় ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া, ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকারান্তরে তার দেশের ড্রোন ও সামরিক বিমান যে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের এই উচ্চ মাত্রার সামরিক সক্ষমতাকেও মেনে নিয়েছেন যে, দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী যে কোনও বিমান বা ড্রোন শনাক্ত করে ইরানের পক্ষে তা গুলি করে ধ্বংস করা সম্ভব।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগের দিন আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে বলেছিলেন, ‘ধ্বংস করে দেওয়া মার্কিন ড্রোনটির সঙ্গে একটি মার্কিন পি-৮ সামরিক বিমান ছিল এবং সে বিমানে ৩৫ জন আরোহী ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই বিমানটিও আমাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল এবং আমরা সেটিকেও ধ্বংস করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি কারণ, আমরা শুধুমাত্র ড্রোনটিকে ধ্বংস করে আমেরিকাকে সতর্ক করতে চেয়েছি।’ আর এরপরেই ইরানকে ধন্যবাদ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মন্তব্য