kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান না দেওয়ায় মাদরাসা শিক্ষককে মারধর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ জুন, ২০১৯ ২১:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান না দেওয়ায় মাদরাসা শিক্ষককে মারধর

শাহরুফ হালদার।

জয় শ্রীরাম স্লোগান না দেওয়ায় এক মাদরাসা শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ট্রেন থেকে তাকে ফেলেও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই শিক্ষককের। এই অভিযোগের আঙুল তুলা হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু সংহতি’র দিকে। তবে সংগঠনটি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। উল্টে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ায় তাদের সমর্থকদের পাথর ছুঁড়ে জখম করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।

ভারতের কলকাতা শহরতলি ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহমুখী ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী শাহরুফ হালদার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তীর চুনাখালির বাসিন্দা। তিনি আরামবাগের হিয়াতপুর হিজবুল্লা নবাবিয়া সুলতানিয়া আশরফিয়া মাদরাসার আরবির শিক্ষক।

শাহরুফ জানিয়েছেন, রমজানের ছুটি কাটিয়ে গত ২০ জুন বৃহস্পতিবার তিনি বাসন্তীরবাড়ি থেকে মাদরাসার কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহমুখী ট্রেনে উঠেন। পরে মঙ্গলবার ওই যুবক বলেন, ‘ ঘটনার দিন ক্যানিং এবং তালদি স্টেশন থেকে গোটা ট্রেনেই হিন্দু সংহতির বেশ কিছু কর্মী সমর্থক উঠেছিলেন। ট্রেন বেশ কয়েকটা স্টেশন পার হতেই চিৎকার চেঁচামেচি কানে আসতে থাকে। বোঝা যাচ্ছিল, পাশের কামরায় কোনো কিছু নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তবে কী নিয়ে প্রথমে তা কিছু বুঝতে পারিনি।’

শাহরুফ জানান, হঠাৎ করেই তাদের কামরাতেও সমস্যা শুরু হয়ে যায়। তার অভিযোগ, হিন্দু সংহতির কয়েকজন তাকে গালিগালাজ করা শুরু করে। প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করে। পরে তাদের ১০ থেকে ১৫ জন শাহরুফকে ঘিরে ধরে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকে। 

শাহরুফের দাবি, তিনি স্লোগান দিতে চাননি। ফলে মারধর আরো বেড়ে যায়।

পুলিশের কাছে শাহরুফ জানিয়েছেন, তিনি কোনো রকমে পার্ক সার্কাস স্টেশনে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাকে ট্রেনের কামরাতেই আটকে রাখা হয়। তারপরে ধাক্কা মেরে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেওয়া হয়।

তাকে প্ল্যাটফর্মের লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে তপসিয়া থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় বালিগঞ্জ রেল পুলিশ থানাতে। সেখানে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

এইদিকে যে সংগঠনের বিরুদ্ধে শাহরুফ অভিযোগ করেছেন, সেই হিন্দু সংহতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলছেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমাদের কেউ কাউকেই জোর করে জয় শ্রীরাম বলতে বলেনি। বরং আমাদের উপরেই আক্রমণ করা হয়েছিল।

রেল পুলিশ এরই মধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন হিন্দু সংহতির একটি সভা ছিল শ্যামবাজারে। সেই সভায় যোগ দিতে ওই সংগঠনের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক ওই ট্রেনে উঠেছিলেন। 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, ওই সমর্থকরা ট্রেনে খুব জোরে জোরে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছিলেন। তা নিয়ে ট্রেনের অনেক যাত্রীই প্রতিবাদ করেন। ওই স্লোগান দেওয়া ঘিরে চলন্ত ট্রেনেই যাত্রীদের একাংশের সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতি হয়। 

রেল পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যারা ওই দিন সমস্যা করেছিল তাদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: আনন্দবাজার 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা