kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

১৪ কিমি পাড়ি দিয়ে পানি আনে সিদ্ধার্থ-আয়েশারা, উধাও শিক্ষাজীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ জুন, ২০১৯ ১৬:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৪ কিমি পাড়ি দিয়ে পানি আনে সিদ্ধার্থ-আয়েশারা, উধাও শিক্ষাজীবন

সিদ্ধার্থ

ভারত জুড়ে তীব্র পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে হাহাকারও। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট  জানিয়েছে, খুব দ্রুত ভারতের একাধিক শহর পানিশূন্য হয়ে যাবে। চলতি বছরের গ্রীষ্ম শুরুর আগে থেকেই বারবার উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের নাম। এই রাজ্যই এখন সবচেয়ে বেশি পানির কষ্টে ভুগছে। এ কারণে পানি আনতে ১৪ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় সিদ্ধার্থ, আয়েশা নামের অনেক শিশুর। এ জন্য তাদের শিক্ষা জীবন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এদিকে ফেটে যাওয়া চাষজমির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার ভাইরাল হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া, মুকুন্দওয়াড়ির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো আরও খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে। পানি সঙ্কট সেখানে তীব্রতর। সেখানে বাইরে থেকে কোনও পানি আসে না। আশপাশের পানির উৎসগুলো শুকিয়ে গেছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর লোকদের দূরদূরান্ত থেকে পানি আনতে হয়। শুধু বড়রাই নয়, ছোটরাও এই কাজে সামিল হয়েছে। 

সম্প্রতি তেমনই এক বাচ্চা ছেলের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর তা দেখার পরেই যেন মহারাষ্ট্রের পানিকষ্টের তীব্রতা অনেকের মধ্যে আরও বেশি করে পৌঁছেছে ।

জানা গেছে, ১০ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ ধাগে ট্রেনে করে রোজ পাড়ি দেয় আওরঙ্গবাদ। তার সঙ্গে থাকে পানির দুটো বড় পাত্র। পানিকষ্টে কাতর পরিবারের জন্য পানি আনতে, এটাই রোজকার রুটিন তার। পড়াশোনা বা খেলাধুলায় সময় নেই। সিদ্ধার্থ রোজ দুপুরে পায়ে হেঁটে চলে যায় মুকুন্দওয়াড়ি রেলস্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে করে চলে যায় আওরঙ্গবাদ। স্টেশন থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়। যাওয়া–আসা নিয়ে সব মিলিয়ে ১৪ কিলোমিটার পথ। 

প্রায়ই সঠিক সময়ে ট্রেন আসে না। ফলে মুকুন্দওয়াড়ি স্টেশনে গাছের তলায় বসে থেকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধার্থকে। অবশ্য সিদ্ধার্থ একা নয়। তার মতোই দেখা যায় ১২ বছরের ছোট্ট মেয়ে আয়েশা কিংবা সিদ্ধার্থের ছোটবোন ৯ বছরের সাক্ষীকেও। তারাও একই কাজ করে চলেছে।

টিকিট ছাড়াই ট্রেনে উঠে পড়ে তারা, যে কোনও কামরায়। ফলে যাত্রীরা বিরক্ত হয় রোজ। রোজ রোজ ভেতরে ঢুকতেও দেওয়া হয় না তাদের। ফলে ট্রেনের দরজার সামনে কোনোমতে বসে থাকে সিদ্ধার্থরা। তারপরে আবার পানি নিয়ে ছোট্ট কাঁধে চাপিয়ে, ফের ট্রেনে উঠে পড়ে। দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা।

দু'বেলা পেটের ভাত জোটাতে ব্যস্ত মা–বাবারা। ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত পানি আনতে। জানা গেছে, মুকুন্দওয়াড়িতে সিদ্ধার্থদের গ্রামে ৩০০ পরিবারের বাস। কিন্তু সেখানে পানির কোনও ব্যবস্থাই নেই। গ্রামের আশপাশে যেটুকু ছিল, তা শুকিয়ে গেছে গ্রীষ্মে। তাই বাধ্য হয়েই ছোট ছেলেমেয়েদের এত দূর পাড়ি দিতে হয়। 

সিদ্ধার্থের কথা সামনে এলেও, এই পানি-যুদ্ধের খুদে সৈনিক কিন্তু সে একা নয়। মহারাষ্ট্রের একাধিক গ্রামের ঘরে-ঘরে এমনই গল্প শুনতে পাওয়া যাবে। জানতে পারা যাবে, শুধু মাটি-পুকুর-গাছই নয়, কীভাবে শৈশব-কৈশোরের মুহূর্তরাও রোজ শুকিয়ে যাচ্ছে তীব্র পানির কষ্টে।

সূত্র : দ্য ওয়াল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা