kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ভারতে মোদির নামে মসজিদ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জুন, ২০১৯ ২০:১৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভারতে মোদির নামে মসজিদ!

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বেঙ্গালুরুর তাস্কের টাউনে তার নামে একটি মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হলেই সামনে ওঠে আসে সত্য ঘটনা। জানা যায়, ‘গ্র্যান্ড মোদি মসজিদ’টি আসলে একশ ৭০ বছরের পুরনো। পুরনো ইমারত ভেঙে নতুন করে সেটি তৈরি করা হয়েছে। আর এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সংযোগ নেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় বার ভোটে জেতার পর নরেন্দ্র মোদির নামে সেটি উদ্বোধন করা হয়েছে বলে সম্প্রতি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যান্ডলে দাবি করতে শুরু করেন একাধিক বিজেপি সমর্থক। বিষয়টি চোখে পড়তেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষে ওই মসজিদের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাতেই আসল তথ্য সামনে আসে।

গত দুই দশক ধরে ‘গ্র্যান্ড মোদি মসজিদ’-এর ইমাম গোলাম রাব্বানি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, এই মসজিদ ১৭০ বছর আগে তৈরি করা। আর প্রধানমন্ত্রীর বয়স ৬৯ বছর। তার সঙ্গে এই মসজিদের কোনো সংযোগ নেই।

তাস্কের টাউনের ওই মসজিদটি ছাড়াও পূর্ব বেঙ্গালুরুর আরো দু’টি মসজিদ ‘মোদি মসজিদ’ নামে পরিচিত বলেও জানান তিনি।

‘মোদি মসজিদ’ কমিটির সদস্য আসিফ মাকেরি জানান, ১৮৪৯ সালে নাগাদ তাস্কের মিলিটারি অ্যান্ড সিভিল স্টেশন নামে পরিচিত ছিল তাস্কের টাউন। সেই সময় সেখানে মোদি আবদুল গফুর নামে এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৮৪৯ সালে তিনি-ই মসজিদটি তৈরি করেন। পরবর্তীকালে মোদি আবদুল গফুরের পরিবার বেঙ্গালুরুতে আরো কয়েকটি মসজিদ তৈরি করে। এমনকি ট্যানারি রোড এলকার একটি রাস্তার নামও মোদি রোড রাখা হয়।

আসিফ আরো জানান, শতাব্দী প্রাচীন ওই মসজিদটি জরাজীর্ণ হয়ে গেলে, ২০১৫ সালে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। তার পর ওই জায়গাতেই নতুন ইমারত গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলে গত মাসে খুলে দেওয়া হয় নতুন মসজিদ। ঠিক যে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন। 

৩০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে নতুন ভাবে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মসজিদের স্থপতি হাসিবুর রহমান। সেখানে মহিলাদের নমাজ পড়ার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডের অধীনেই রয়েছে মসজিদটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা