kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

স্কুল টয়লেটে আত্মহত্যা

বিরিয়ানি খেতে চেয়েছিল মেয়েটি...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জুন, ২০১৯ ১৭:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিরিয়ানি খেতে চেয়েছিল মেয়েটি...

কৃত্তিকা পাল

সম্প্রতি ভারতের কলকাতার একটি স্কুলের টয়লেটে আত্মহত্যা চেষ্টা করে এক ছাত্রী। পরে তকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। জিডি বিড়লার দশম শ্রেণির কৃতী ওই ছাত্রীর নাম কৃত্তিকা পাল। এদিকে, বাবার কাছে মেয়েটির আবদার ছিল, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি খাওয়ার। হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে বিরিয়ানি কিনবেন ভেবেছিলেন বাবা। কিন্তু তার আগেই জানলেন, মেয়ে আর নেই।

কৃত্তিকা পালের বাবা-মা সুদীপ্ত ও তানিয়া পাল জানান, পড়াশোনায় তুখোড় ও বইপাগল ছিল মেয়েটি। কিন্ত কেন এমন কাণ্ড করল, তার উত্তর জানেন না তারা। 

সুদীপ্ত পাল

বাবাকে বিরিয়ানি আনার পাশাপাশি মাকে কোমল পানীয় কিনে রাখতেও বলেছিল কৃত্তিকা।

বৈষ্ণবঘাটায় থাকলেও কৃত্তিকা  প্রতি শনি-রবিবার বারুইপুরে ঠাকুরদা বিমল পালের কাছে যেত। 

নাতনি যে নেই, তা শনিবার বিকেলের আগে জানানো হয়নি ঠাকুরদা বিমলবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে। শুক্রবার বিকেলে টিভির লাইনও কেটে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, নাতনির এই পরিণতি জেনে ঠাকুরদা, ঠাকুমা  নির্বাক হয়ে গেছেন। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় বারুইপুর কীর্তনখোলা শ্মশানে কৃত্তিকার শেষকৃত্য হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেখানে যেতে পারেননি কৃত্তিকার মা। 

পুলিশ জানায়, শেষ চিঠিতে শেষকৃত্য ভালভাবে করার কথা লিখেছিল কিশোরী মেয়েটি। 

এদিকে, এসএসকেএমের মর্গে গিয়েছিলেন কৃত্তিকার বান্ধবীদের মা-বাবারা। 

এক বান্ধবীর মা বলেন, আমাদের সিরিয়াস মম বলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে ওই গ্রুপের মাধ্যমেই আমাদের যোগাযোগ থাকত। শুক্রবার সকালেও কৃত্তিকার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু কৃত্তিকা যে মানসিক অবসাদে ভুগছে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি।

ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর সুস্মিতা দামের স্বাক্ষরিত নথি আনতে গিয়েছিলেন সুদীপ্তবাবু ও তাঁর শ্যালক। 

কাউন্সিলর জানান, সুদীপ্তবাবু মেয়ের বইপ্রীতির কথা জানান তাঁকে। পড়াশোনা নিয়ে মেয়ের ওপরে চাপ দিতেন না বলেও জানান। মার্শাল আর্টও শিখত মেয়েটি। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা