kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

নৃশংসভাবে আত্মহত্যার আগে স্কুলে কৃত্তিকার শেষ সময়টা যেমন কাটে ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুন, ২০১৯ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৃশংসভাবে আত্মহত্যার আগে স্কুলে কৃত্তিকার শেষ সময়টা যেমন কাটে ...

গত শুক্রবার আত্মহত্যা করেছে ১৬ বছর বয়সী কৃত্তিকা পাল। গভীর একাকীত্ব আর চরম হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বন্ধু এবং পরিচিতরা বলছেন, অত্যন্ত শান্ত ও চাপা স্বভাবের ছিল কৃত্তিকা। সবসময় কম কথা বলত এবং কখনো কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়নি তার মধ্যে। নাচ-গান-আঁকাতেও বেশ ভালো ছিল সে।

প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দা বিভাগের ধারণা, স্কুলের গাফিলতিতে কৃত্তিকা পাল আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে আরো তৎপর হলে হয়ত বাঁচানো যেত কৃত্তিকাকে।

ছাত্রী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যেই ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। একাধিক প্রশ্নও ওঠা শুরু হয়েছে। গতকালই দুই শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। শনিবার সকল শিক্ষিকাদের স্কুলে ডেকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

কৃত্তিকা মারা যাওয়ার আগে ঠিক কী কী ঘটেছিল সেদিন, তার গতিবিধির তথ্যানুসন্ধান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ বলছে,  ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে হেসেই কথা বলছিল সে, স্বাভাবিক ছিল তার আচরণ। এরপর পঞ্চম পিরিয়ড শেষ হতেই সে তার সহপাঠীদের জানায়, মাথা যন্ত্রণার কারণে সিক রুমে যাওয়ার কথা। 

আত্মহত্যার সঙ্গে ওয়েব সিরিজের মিল! স্কুল টয়লেটে ছাত্রীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এরপর ১ টা ২৯ মিনিটে সিক রুমে যাওয়ার বদলে সে সোজা চলে যায় বাথরুমে। ষষ্ঠ পিরিয়ডে শিক্ষিকা তার খোঁজ করলে সহপাঠীদের থেকে জানতে পারেন সে সিক রুমে। শেষ হয়ে যায় ষষ্ঠ পিরিয়ডও। সপ্তম পিরিয়ডে আবারো তার ডাক পড়ে; এরপর শুরু হয় খোঁজ।

পুরো স্কুল খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি, শেষে তাকে খুঁজতে যাওয়া হয় স্কুলের শৌচাগারে। বন্ধ দরজার ওপর থেকে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে কৃত্তিকা। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 

গতকালই খবর পেয়ে শহরে আসেন কৃত্তিকার বাবা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে গতকাল তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা তার বাবা-মাকে। তারপরই পুরোটা স্পষ্ট হবে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই ধারণা পুলিশের। তিন পাতার সুইসাইড নোটও তাই বলছে। 

স্কুল টয়লেটে আত্মহত্যা : তিন পাতায় লিখে গেল রূঢ় বাস্তবতার আখ্যান

গোয়েন্দা বিভাগ মনে করছে, আগে থেকেই এই পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল কৃত্তিকা, সে অনুসারে আগেই লিখে রেখেছিল সুইসাইড নোট। সব মিলিয়ে ক্রমশ দানা বাঁধছে জল্পনা। কী বলছে সুইসাইট নোট, শুধুই পড়াশোনার চাপ? পারিবারিক কারণ নাকি অন্যকিছু, সেই নিয়েও চলছে তদন্ত। 

খবরটি ইউনিকোড থেকে বিজয়ে নিতে ব্যবহার করুন কালের কণ্ঠের বাংলা কনভার্টার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা