kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

পশ্চিমবঙ্গে আবারো তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, নিহত দুই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুন, ২০১৯ ২২:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পশ্চিমবঙ্গে আবারো তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, নিহত দুই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যারাকপুর অঞ্চলে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দু'জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরো তিনজন।

কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে গুলি বিনিময় আর বোমাবাজি চলার পটভূমিতে স্থানীয় প্রশাসন ভাটপাড়া আর জগদ্দল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভাটপাড়ায় একটি নতুন থানা উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুরু হয় বোমাবাজি।

মুহুর্মূহু গোলাগুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যায় গাড়ি। ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় রাস্তাঘাট এখনো জনশূন্য।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বেশ কিছু এলাকায় আইন শৃঙ্খলতাজনিত যে পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে, সে ব্যাপারে সরকার সিরিয়াস ভিউ নিচ্ছে। কিছু সমাজবিরোধী আর অপরাধী সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে বহিরাগতও জড়িত আছে।

তিনি আরো বলেন, এর ফলে স্বাভাবিক জনজীবন আর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ডেসপারেট হচ্ছে। পুলিশের মহানির্দেশক আর সিনিয়ার অফিসারদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স গেছে।

এই সংঘর্ষের জন্য বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস উভয়েই পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর চব্বিশ পরগণার নেতা ও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলছেন, ওই অঞ্চলে নির্বাচনের ফল বেরনোর সন্ধ্যা থেকেই বিজেপি একতরফাভাবে মারামারি করছে। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনও রাজনীতির রঙ না দেখে গ্রেপ্তার করতে সে বিজেপির নেতাই হোক বা যেই হোক।

দুই দলের এই হানাহানিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ১৭ বছরের কিশোর রামবাবু সাউ। তিনি ফুচকা বিক্রি করতেন। হাসপাতালে মৃত্যু হয় ধর্মবীর সাউ নামে আরেক ব্যক্তির। এই ঘটনায় ছয় জন পুলিশও আহত হয়েছে।

রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলছেন, ব্যারাকপুর অঞ্চলের মানুষ অর্জুন সিংকে বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন, ভাটপাড়া কেন্দ্রের মানুষ তার ছেলে পবন সিংকে জিতিয়েছেন, এই জনাদেশ কিছুতেই মমতা ব্যানার্জি মেনে নিতে পারছেন না। সেজন্যই বারে বারে ভাটপাড়াকে অশান্ত করে তুলছেন পুলিশকে দিয়ে। এর সব দায় দায়িত্ব নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।

পুলিশ অবশ্য বলছে কার গুলিতে ওই দুজনের মৃত্যু হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাতে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি নির্দেশ দিয়েছেন তিনদিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা