kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রস্তাবনা আটকে দিলো চীন-রাশিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৯ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রস্তাবনা আটকে দিলো চীন-রাশিয়া

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়াবিরোধী মার্কিন প্রস্তাবনা পিছিয়ে দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। মার্কিন দাবির পক্ষে আরো তথ্যপ্রমাণ চেয়েছে দেশ দুটি। এদিকে কোরীয় উপদ্বীপের সংকট সমাধানে উত্তর কোরিয়ার নেয়া পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বুধবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোডোং সিনমুন। এতে কোরীয় সংকট সমাধানে উত্তর কোরিয়ার নেয়া রাজনৈতিক পদক্ষেপকে সঠিক উপায় বলে আখ্যা দেন তিনি। এছাড়া, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পর্যটন ও যুবউন্নয়নে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ঘোষণা দেন শি জিনপিং।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কিম জং উনের নেয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করে চীন। দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবো আমরা। এছাড়া, কোরীয় উপদ্বীপ ইস্যুতে সবপক্ষের সঙ্গে যৌথ আলোচনা ও সমঝোতা বাড়াতে আগ্রহী বেইজিং।

বৃহস্পতিবার দুদিনের সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছাবেন শি জিনপিং। ১৪ বছরের মধ্যে কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর এটি। চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফর পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা দক্ষিণ কোরিয়ার।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা আশা করি, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের মাধ্যমে দ্রুত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা শুরু হবে। কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এ সফর কার্যকর সফর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা আমাদের।

চীনা প্রেসিডেন্টের সফর, চলতি মাসের শেষের দিকে জাপানে অনুষ্ঠিত জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সম্মেলনে বিভিন্ন অংশীদার ও দেশের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য তুরুপের তাস দরকার শি জিনপিংয়ের। উত্তর কোরিয়া সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও মত তাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঝ্যাং লিফান বলেন, কিম জং উনেরও চীনা তুরুপের তাস প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তিনি যেনো ট্রাম্পকে বলতে পারেন, আমারও বড় ভাই আছে। চীনেরও উত্তর কোরিয়ার মতো তুরুপের তাসের প্রয়োজন। পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু ইস্যুতে কিম জং উন, চীনের কথা শুনেন। এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সমঝোতায় বেইজিং এগুলো কাজে লাগাবে।

এরমধ্যেই, নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়াবিরোধী মার্কিন প্রস্তাব পিছিয়ে দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। গেলো সপ্তাহে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য কোরে জ্বালানি আমদানির অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পাশাপাশি জ্বালানি রফতানি বন্ধে রফতানিকারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার সে প্রস্তাব পিছিয়ে দিয়ে, মার্কিন দাবির পক্ষে আরো তথ্যপ্রমাণ দাবি করে চীন ও রাশিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা