kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

'শুক্রাণু দানকারীই শিশুর বৈধ বাবা',বলছে আদালত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৯ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'শুক্রাণু দানকারীই শিশুর বৈধ বাবা',বলছে আদালত

প্রতীকী ছবি

শুক্রাণু দানকারী এক ব্যক্তিকে একটি মেয়ে শিশুর বাবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আদালত। ওই শিশুটির বয়সন এখন ১১ বছর। এক রায়ে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালত বলেছে, শিশুটির জীবনে ওই ব্যক্তির সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। 

নতুন এই রায় দেশটির নিম্ন আদালতের দেয়া এক আদেশ বাতিল করে দিয়েছে।

জানা গেছে, ওই শিশুটিসহ জন্মদানকারী মাকে  নিউজিল্যান্ডে যাওয়া ঠেকাতে আদালতে মামলায় লড়াই শুরু করেছের এক ব্যক্তি। এ প্রেক্ষাপটে আদালত ওই রায় দিয়েছে। ওই ব্যক্তির আইনজীবী জানান, টানা পাঁচ বছর লড়াইয়ের পর এই স্বীকৃতি মিললো তার মক্কেলের।

তিনি বলেছেন, কোন ধরণের রোমান্টিক সম্পর্কে না জড়িয়ে বন্ধুর সাথে যে বাবারা সন্তান লালন-পালন করতে চান তাদের সবার জন্যই এই রায় গুরুত্বপূর্ণ।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, এই রায়ের খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার আইনী আওতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এই রায়।

২০০৬ সালে শুক্রাণু দানের সময় ৪৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি এবং শিশুটির জন্মদানকারী মা পরস্পর বন্ধু ছিলেন। তারা যৌথভাবে শিশুটিকে বড় করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কিছুদিন পর বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা। 

ওই নারীর আইনজীবীর দাবি, ওই ব্যক্তি শিশুটির বাবা নন।

তবে শিশুটির জন্ম সনদে ওই ব্যক্তিকেই বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং শিশুটিও তাকেই 'বাবা' ডাকতো।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছে, বাবা হিসেবে বৈধ স্বীকৃতি রয়েছে ওই ব্যক্তির। এখন ওই পরিবারটি নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমাতে পারবে না।

আদালতের রায়ে বলা হয়, গর্ভধারণের একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শুক্রাণু দান ছাড়া আর কোন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না এমন ব্যক্তিকে ওই শিশুর জৈবিক পিতা বা 'শুক্রাণু দানকারী' বলে উল্লেখ করা হয়। এ থেকে এটাতে উপনীত হওয়া যায় যে, এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়া কোন শিশুর সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকবে না।

তবে আইনী কারণে কোন পক্ষের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির পারিবারিক আইন বিষয়ক প্রফেসর ফিওনা কেলি বলেন, এটা আইনী বৈধতা পেলো যে, কোন একাকী নারীকে শুক্রাণু দানের পর ওই ব্যক্তি যদি শিশুর জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকেন তাহলে তিনি বাবা বলে গণ্য হবেন।

প্রফেসর কেলি বলেন, ওই ব্যক্তিকে শিশুটির জীবনে কতটা সংশ্লিষ্ট হতে হবে সে বিষয়ে রায়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। যা 'আরও অনেক পরিস্থিতির দ্বার খুলবে'।

তিনি বলেন, অনেক শুক্রাণু দানকারী ব্যক্তিই শিশুর সাথে কম বেশি মাত্রায় জড়িত; কিন্তু তারা বলেন না যে, তারাই শিশুদের আইনগতভাবে বৈধ বাবা। এই রায় তাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, রায়টি এই নির্দিষ্ট একটি পরিবারের সমস্যার সমাধান দিয়েছে। তবে এর বাইরেও অনেক উদাহরণ রয়েছে। জন্ম সনদে শুক্রাণু দাতার নাম উল্লেখ থাকার ঘটনা খুবই বিরল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা