kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

লোকসভার কংগ্রেস নেতা হলেন মমতার 'কট্টর সমালোচক' অধীর

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোকসভার কংগ্রেস নেতা হলেন মমতার 'কট্টর সমালোচক' অধীর

ভারতের বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ এবং লড়াকু নেতা অধীর চৌধুরীকে কংগ্রেস লোকসভায় পার্টির নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। ফলে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পর অধীর চৌধুরী দ্বিতীয় কোনো বাংলার কংগ্রেস নেতা যিনি লোকসভায় কংগ্রেস দলের নেতা হলেন।

এ বিষয়ে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে যদি কেউ করে থাকেন উনি হলেন অধীর। ওনার এই পদ কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গে অবশ্যই চাঙ্গা করবে।

রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি। তাই তিনি লোকসভার নেতা হতে চাননি। অন্য দিকে সনিয়া লোকসভার নেত্রী হলে পুরো ব্যাপারটা পরিবারের মধ্যে চলে আসতো। পর্যবেক্ষকদের মতে, সব দিক বিবেচনা করেই অধীরের মতো মুখকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরল কংগ্রেস।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার কংগ্রেস সংকটে পড়ে গিয়েছে। টিমটিম করে জ্বলছে বহরমপুর আর মালদহ দক্ষিণ। সেদিক থেকে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

এবার অধীরের জয়টাও অন্যবারের থেকে আলাদা। তৃণমূল সর্বোশক্তি ঢেলে দিয়েছিল বহরমপুর জিততে। কয়েক মাস আগে যখন লোকসভায় চিটফান্ড ইস্যুতে অধীর তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বাছাবাছা বিশেষণে আক্রমণ শানিয়েছিলেন সেদিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীরের বক্তৃতা নিয়ে নালিশ করেছিলেন সোনিয়ার কাছেও। এতটাই রেগে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী যে সংসদে দাঁড়িয়েই বলেছিলেন, 'অধীরকে এবার হারাবোই'। 
কিন্তু ভোটের দিন সকাল থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছেন অধীর। জিতেছেন বুক চিতিয়ে।

বহরমপুর থেকে পাঁচবারের সাংসদ অধীর। লোকসভায় কংগ্রেসের অনেক নেতার তুলনায় তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবীণ। রেলের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সংক্রতান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যও ছিলেন। তাছাড়া গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন বিল নিয়ে বিতর্কে অধীরের বক্তৃতা ও বিরোধিতা বারবার নজর কেড়েছে। সেদিক থেকে অধীরবাবুর এই স্বীকৃতি প্রাপ্য ছিল বলেই মত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। তার ওপর সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর যে আস্থা রয়েছে সেই বার্তাও এতে স্পষ্ট।

লোকসভা নির্বাচনে এবার মাত্র ৫২টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। ফলে এবারও কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না। কারণ বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে গেলে ন্যূনতম ৫৪টি আসন জিততে হতো। কিন্তু সে না হোক। লোকসভায় তো প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই একজন করে নেতা নির্বাচিত করতে হয় সাবেক কংগ্রেস নেতা নির্বাচিত করল অধীরকে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা