kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

ডাক্তার-রোগী সম্পর্কে বিশ্বাস ফেরানোর স্বপ্নে সন্তানের নাম রাখা হলো 'আস্থা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুন, ২০১৯ ১২:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডাক্তার-রোগী সম্পর্কে বিশ্বাস ফেরানোর স্বপ্নে সন্তানের নাম রাখা হলো 'আস্থা'

সদ্যোজাত শিশু আস্থা ও তার মা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৭ দিনব্যাপী  চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে গতকাল সোমবার এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। একদিকে চলছিল ডাক্তারদের আন্দোলন। অন্যদিকে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর পরিবার-পরিজনদের হাহাকার, হাসপাতালের বাইরে উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে থাকা মানুষগুলোর ভীড়। এরই মাঝে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এক সদ্যোজাত শিশু যেন 'দূত' হয়ে এলো। ডাক্তার-রোগী সম্পর্কে বিশ্বাস ফেরানোর স্বপ্নে এই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে 'আস্থা'। 

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছেলে শিশুর জন্ম হয়। শিশুর বাবা-মায়ের দাবি, ভবিষ্যতে চিকিৎসক নিগ্রহ সমাধানের প্রতীক হবে 'আস্থা'। 

গত ৭ দিন ডাক্তারদের কর্মবিরতির কারণে ভোগান্তি বেড়েছিল রোগীদের। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও তার ব্যতিক্রম ছিল না। জেলার অসহায় রোগীরা সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা না পেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেন না বলে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। বহরমপুরের দম্পতি সোনিয়া খাতুন ও কুশল শরিফ সরকারি হাসপাতালের 'মাতৃ মা' বিভাগে পরিষেবা পাবেন না বলে, সেই জেলারই ইন্দ্রপ্রস্থের এক নার্সিংহোমে যোগাযোগ করেন। রবিবার সন্ধ্যায় ওই নার্সিংহোমে এক শিশুর জন্ম হয়। সোনিয়া খাতুন ও কুশল শরিফ তাদের সন্তানের নাম রেখেছেন আস্থা। মেয়ে-জামাইয়ের আস্থার ওপর সায় দিয়েছেন শাশুড়িও।

শিশুটির বাবা কুশল শরিফ বলেন, রোগী ও চিকিৎসকদের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেই ছেলের নাম রাখা হয়েছে 'আস্থা'। যেকোনো চিকিৎসকই সবসময় রোগীকে বাঁচাতে চান। কিন্তু অনেকসময় শেষ মুহূর্তে নিয়ে আসা হয় রোগীদের। আবার অনেকের দু'তিন দিন পরে মৃত্যু হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রিয়জন হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েন আত্মীয়রা। সেই রাগ গিয়ে পড়ে ডাক্তারদের পরিষেবার উপর। অনেক সময় চিকিৎসকরা নিগৃহীত হন। এই বোঝাবুঝির সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেই নিজের সন্তানের নাম রেখেছি আস্থা।

তিনি জানান, আস্থা শরিফ চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের প্রতীক। 

অন্যদিকে আস্থার নানী মিনকি বিবি জানান, পাড়ার লোকের কথা শুনে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মেয়েকে নিয়ে যাননি। ওই নার্সিংহোম ১৮ হাজার টাকা নেবে বলে জানায়। যেটা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য। তবে তার নাতি জন্মগ্রহণ করেছেন এক চিকিৎসকের হাতেই। নিরাপত্তা চেয়ে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের দাবি অমূলক নয়। তবে তাদের মতো আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সরকারি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনও গতি নেই। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা